রোববার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করে পাটগ্রাম থানা পুলিশ।
গ্রেফতার ইয়াকুব আলী উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের জিরো পয়েন্ট এলাকার মৃত নাসির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, দুই মেয়েসহ বিধবা মিনু বেগমকে বিয়ে করেন ইয়াকুব আলী। এটি তার তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পর দু্ই মেয়ের মধ্যে এক মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন। ছোট মেয়ে বিথি আক্তার (১৬) ও তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন ইয়াকুব আলী। গত ২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল রাতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে স্ত্রী মিনু বেগমকে মারধর করলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এই সুযোগে লম্পট বাবা ইয়াকুব আলী পাশের রুমে মেয়ে বিথিকে ধর্ষণ করে। পরে মিনু বেগমের জ্ঞান ফিরলে মেয়ের কান্না শুনে কারণ জানতে চায়লে কোনো সদুত্তর না দিয়ে কীটনাশক পান করে বিথি।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে ওই রাতেই বিথির মৃত্যু হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।
মর্গের চিকিৎসকরা মেয়ের আত্মহত্যার পেছনে ধর্ষণের আলামত পেয়ে সিআইডিতে প্রতিবেদন পাঠান। রিপোর্ট পর্যালোচনা করে সিআইডি পাটগ্রাম থানাকে শনিবার (২৭ এপ্রিল) চিঠি পাঠিয়ে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচণার দায়ে মামলা নিতে বলেন।
এ রিপোর্টের প্রেক্ষিতে পাটগ্রাম থানা পুলিশ মৃত বিথি আক্তারের বাবা ইয়াকুব আলী ও মা মিনু বেগমকে রোববার (২৮ এপ্রিল) থানায় ডেকে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতে বিথির মা মিনু বেগম মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে স্বামী ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে পাটগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সন্ধ্যায় ইয়াকুব আলীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
পাটগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনছুর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে বলেন, মর্গের রিপোর্ট ও মৃত মেয়ের মায়ের অভিযোগে তার পালক বাবা ইয়াকুব আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গুরুত্ব সহকারে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ২০৩০ ঘন্টা, এপ্রিল ২৮, ২০১৯
আরএ