‘দেশ দাঁড়িয়ে আছে একাত্তরের ওপর। চব্বিশ শুধু তাকে মজবুত করেছে’—এমন মন্তব্য করে প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি বলেছেন, ‘দেশ থেকে একাত্তর হারায়নি, স্রেফ খুনি আর তার চল্লিশ ডাকাত পালিয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের খান বলেন, ‘‘একাত্তর বেহাত হয়ে যাওয়া মানে পরাধীনতা। এবার আসেন পরাধীনতার অর্থটা একটু আরেকবার পাঠ করি। দেশে কে নির্বাচনে যাবে কে যাবে না এটা যখন অন্য আরেকটা দেশ নির্ধারণ করতে শুরু করে, তখন তাকে পরাধীনতা বলে। আপনার মন্ত্রিসভায় কে মন্ত্রী হবে আর কে এমপি, সকল নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান কে হবে, সেটা যখন দিল্লির সরকার নির্ধারণ করে, তখন সেটাকে পরাধীনতা বলে। ’
“লাজ-লজ্জার মাথা খেয়ে আওয়ামী পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন প্রকাশ্যে বলেন—‘ভারতবর্ষ সরকারকে বলে এসেছি তারা যেন হাসিনা সরকারকে আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাখে’—তখন এটাকে পরাধীনতা বলে। ”
তিনি আরও বলেন, “যখন বাংলাদেশে গুম হওয়া সুখরঞ্জন বালিকে ভারতে পাওয়া যায়, তখন সেটাকে পরাধীনতা বলে। যখন বিডিআর তদন্তে সরকার কর্তৃক নিয়োজিত তদন্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সোবায়েলকে সরকারি বাহিনীই গুম করে রাখে ৩৬৩ দিন, কারণ তার তদন্তে অন্য বিশেষ কিছু শক্তির সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসছিল, তখন সেটাকে পরাধীনতা বলে। ”
“যখন দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে পোস্ট করার অপরাধে সরকারি দলের গুন্ডারা আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে মেরে ফেলে, তখন এটাকে পরাধীনতা বলে। যখন টিপাইমুখ অভিমুখে লং মার্চ ঘোষণা দেওয়ার পর ইলিয়াস আলীকে গুম করে ফেলা হয়, তখন সেটাকে পরাধীনতা বলে। ”
এই প্রবাসী সাংবাদিক বলেন, “আরও এক হাজার উদাহরণ দেওয়া যাবে কী করে একাত্তর বেহাত হয়েছিল সেটার। একাত্তর মঞ্চ তো করা দরকার ছিল সেদিন। আপনারা সেদিন আপনাদের রোল প্লে না করে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করায়, দেশের সাধারণ ছাত্র-জনতা চব্বিশের অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। যে চব্বিশ এসে আসলে একাত্তরের পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছে। ক্ষমতা আর লুটপাটের নেশায় অন্যদের হাতে দেশের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার মতো জঘন্য কাজ যে খুনি করেছে, তাকে তাড়ানোর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পক্ষশক্তি দেশটা রিক্লেইম করেছে। ”
“ফলে আংকেলস, দেশ দাঁড়িয়ে আছে একাত্তরের উপর। চব্বিশ শুধু তাকে মজবুত করেছে। দেশ থেকে একাত্তর হারায়নি, স্রেফ খুনি আর তাঁর চল্লিশ ডাকাত পালিয়েছে”, যোগ করেন জুলকারনাইন সায়ের খান।
এনডি/