রোববার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে টাঙ্গাইল সদর থানা থেকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত সাপেক্ষে এসআই জেসমিনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়।
এর আগে শনিবার রাতে এসআই জেসমিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে থানা ঘেরাও করে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বেলতা গ্রামের মানুষ। এ সময় তারা ওই এসআইয়ের প্রত্যাহার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পরে পুলিশ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা থানা এলাকা থেকে চলে যায়।
এলাকাবাসী জানান, গত ২৮ মার্চ রক্ষিত বেলতা এলাকায় তিন বছরের মেয়ের সামনে রেজিয়া বেগম (৩৫) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করে ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি থাকায় পুলিশ বিভিন্নজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইল সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) জেসমিন আক্তার ও তার সোর্স বক্কর হোসেন কয়েকজনকে আটক করে মোটা অংকের টাকা নেয়। শনিবার বক্কর হোসেন রক্ষিত বেলতা এলাকায় হাজী আয়নাল হকের বাসায় গিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে কয়েকজন মিলে বক্কর হোসেনকে আটক করে।
খবর পেয়ে এসআই জেসমিন আক্তার ও ওয়াজেদ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে এক সাংবাদিককে আটক করে এবং তার পরিচয়পত্র নিয়ে নেয়। একই সঙ্গে সোর্স বক্কর হোসেনকে উদ্ধার করে চলে যায় জেসমিন। এসময় গ্রামবাসী তাদের আটক করে। পরে আরো পুলিশ সদস্য গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। পরে রাত ৮টায় গ্রামবাসী একত্র হয়ে জেসমিনের প্রত্যাহার ও পুলিশ সোর্স বক্করের বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বাংলানিউজকে জানান, জেসমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ায় তাকে সদর থানা থেকে ক্লোজড করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে পুনরায় তাকে টাঙ্গাইল থানায় ফেরত পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮০৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৮, ২০১৯
আরএ