ঢাকা: কনুইয়ের নিচ থেকে এক হাত কাটা। অপর হাত তো কনুইয়ের ওপর থেকেই নেই।
কোনপকেটে দাঁত মাজার ব্রাশ, কোনটিতে কলম, কোনটিতেবা চাবির রিঙ, নেইল কাটার, চিরুনি বা আর কোনো নিত্য পণ্য। হাত না থাকায় কোনো পণ্য বেচার টাকা গুণে নেওয়াও সম্ভব নয় তার পক্ষে।
তবুও রাস্তায় নেমেছেন জীবনের তাগিদে। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কাকতাড়ুয়ার মতো দু’পাশে দুই অর্ধেক হাত প্রসারিত করে ছুটছেন এ গাড়ি থেকে ও গাড়ি। ক্রেতারা কেউ কিছু চাইলে সেটা যে পকেটে আছে তা হাসিমুখে দেখিয়ে দিচ্ছেন। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে টাকাটাও ভরে দিতে হচ্ছে ক্রেতাকেই।
নাম তার রইসউদ্দিন। বয়স ৩৩। বাড়ি তার ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার মুসল্লী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে। ২০০৫ সালের ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট খেলা দেখার জন্য টিভির এন্টিনা লাগাতে গিয়ে উল্টে পড়ে যান ১১০০ ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের উপর।
প্রথমে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল, পরে ময়মনসিংহ হাসপাতাল হয়ে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিউটে। কিন্তু ইনফেকশন হওয়ায় কেটে বাদ দিতে হয় দু’টো হাতই।
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে হাতছাড়াই জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে মনস্থির করেন রইস। ২০১৩ সালে বিয়েও করেন তিনি। উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবন্ধকতা জয় করে আসেন রাজধানী শহর ঢাকায়। শুরু করেন হকারি। সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মহাখালীর আমতলীর হাজারি বাড়িতে। একটা পুত্র সন্তানও আছে তার।
সাধারণত বিজয় সরণি মোড়ে দেখা মেলে রইসের। রোববার বিকেলেও তাকে পাওয়া গেলো সেখানেই। ট্রাফিক সিগন্যালে থেমে থাকা গাড়িগুলোতে ছুটছেন, হাঁক দিচ্ছেন। কেমন আছেন জানতে চাইলে বলেন, আল্লাহর রহমতে ভাল আছি।
বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধি কর্মজীবী হকার্স জোটের অর্থসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন রইস। এভাবে হকারি করতে কষ্ট হলেও ভিক্ষাবৃত্তি ভীষণ অপছন্দ তার।
বাংলাদেশ সময়: ২১০৭ ঘণ্টা, অক্টোবর ৩০, ২০১৬
জেডএম/