শনিবার (২৭ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টার কিছু পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে সার্জেন্ট সদরুলের হাতে হয়রানির শিকার হয়েছেন অভিযোগ করে ফেসবুকে ওই অভিযোগ তুলে ধরেন আহসান মুহাম্মাদ। সকাল হতে হতে সেটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
আহসান তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, সার্জেন্ট সদরুল মিরপুর ২ নম্বর এলাকায় তার বাইক থামিয়ে কাগজ পরীক্ষা করেন। এক পর্যায়ে কোনো মামলা না দিয়ে তাকে চলে যেতে বলেন। যাওয়ার সময় সার্জেন্টকে উদ্দেশ্য করে আহসান বলেন, ‘বাইক চেক করার পাশাপাশি বাস ড্রাইভারদেরকেও একটু চেক কইরেন’।
আহসানের ভাষ্যে, এতেই তেড়ে আসেন সার্জেন্ট সদরুল। আহসানের কাছ থেকে কাগজ নিয়ে মামলা দিতে থাকলে এর ছবি তোলেন বাইকচালক আহসান। এতে চটে গিয়ে সদরুল পুরো কাগজ চান আহসানের কাছে। পাশে পুলিশ বক্সে নিয়ে গিয়ে আরেক সার্জেন্টের মুখোমুখি করেন আহসানকে। তিনি আহসানকে মোবাইল নিয়ে ছবি ডিলিট করেন এবং ফের মামলা দেন। যদিও ছবি শেষ পর্যন্ত রয়েই গিয়েছিল আহসানের মোবাইলে।
সার্জেন্ট সদরুল আমিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। এমনকি আহসানের মোটরবাইকের কাগজপত্র দেখে প্রথম দফায় ছেড়ে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের এই সার্জেন্ট বলেন, আমার সঙ্গে তার কোনো ধরনের কথা কাটাকাটি হয়নি। আমি তাকে মামলাও দেইনি। মামলা দিয়েছেন আরেক সিনিয়র স্যার (সার্জেন্ট শাহ আলম)। আমি শুধু কাগজটগুলো নিয়ে স্যারকে দিয়েছি।
ঘটনার বর্ণনায় সার্জেন্ট সদরুল বলেন, আমি যখন তার কাগজ নিচ্ছিলাম তখন তিনি ছবি তোলা শুরু করেন। আমি বিষয়টি শাহ আলম স্যারকে বলি। স্যার তার সঙ্গে কথা বললে, তিনি (আহসান) ছবিগুলো মুছে ফেলেন বলে আমাদের দেখান।
এ বিষয়ে সার্জেন্ট শাহ আলম বাংলানিউজকে বলেন, বেতার বার্তায় সিনিয়র স্যারের কাছ থেকে তথ্য পেলাম যে, ওই মোটরবাইক (আহসান) সিগন্যাল অমান্য করে চলছে। দুই নম্বর মোড়ে বাইকটি এলে আমরা থামাই এবং মামলা দেই। এসময় তার সঙ্গে কোনো দুর্ব্যবহার বা অন্য বাসচালকদের কাগজপত্র চেকিং নিয়ে কোনো কথা হয়নি। তবে তিনি মোবাইলে ছবি তোলা শুরু করেন। এরপর আমরা এর কারণ জানতে চাইলে ছবি মুছে ফেলেছেন বলে আমাদের জানান। আমরা তার মোবাইলও নেইনি। পরে সিগন্যাল অমান্য করার জন্য নিয়মিত মামলা দেওয়া হয়।
পুরো বিষয়টি নিয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির ট্রাফিকের পশ্চিম বিভাগের পল্লবী জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার সাইকা পাশা বাংলানিউজকে বলেন, পেট্রোলিংয়ের সময় আমিই বাইকটিকে সিগন্যাল অমান্য করতে দেখে ওয়্যারলেসে বলে দেই। এরপর আর খবর রাখিনি। আজ ফেসবুকে পোস্টটা দেখলাম। আর পোস্টে যা দেখলাম তার সবটুকুই মিথ্যা।
সাইকা পাশা বলেন, ছেলেটা (সদরুল) মাত্র কাজ শুরু করেছে, সে শিক্ষানবীশ। তার এখনো মামলা দেওয়ার অথরিটি (কর্তৃত্ব) আসেনি। মামলা দিয়েছেন অন্য সিনিয়র সার্জেন্ট (শাহ আলম)। সদরুলের কাছে ওয়্যারলেস ডিভাইসও নেই। আমার মেসেজ সম্পর্কেও সে জানে না। অথচ এখানে তাকে ভিকটিম করা হচ্ছে। সে শুধু তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিল। একজন সিগন্যাল অমান্য করবে আর আমরা কোনো পদক্ষেপ নেবো না? সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু এলেই কি সেটা সত্য? আগ-পিছ না দেখে এভাবে আমাদের ওপর যদি চাপ দেওয়া হয় তাহলে আমরা কাজ করবো কিভাবে?
ফেসবুক পোস্টের কারণে সামাজিকভাবে হেয় হয়েছেন মন্তব্য করে সার্জেন্ট সদরুল আমিন বাংলানিউজকে বলেন, আমি মাত্রই চাকরিতে যোগ দিয়েছি। আমার ছবি এভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার পর থেকে বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন এমনকি কোর্সমেটরা ফোন দিয়ে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞেস করছে। আমরা চাকরি করি বলে কি এভাবে আমাদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে দেওয়া যাবে? আসলে কি ঘটলো, তা কি কেউ জানতে চেয়েছে?
ঘটনার বিস্তারিত জানতে এবং পুলিশের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্য জানতে চেয়ে বাংলানিউজের পক্ষ থেকে আহসান মুহাম্মাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৮, ২০১৯
এসএইচএস/এইচএ/