রোববার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ইইউ-বাংলাদেশ ৫ম বিজনেস ক্লাইমেট ডায়ালগ’ শীর্ষক সংলাপের উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইইউ-এর রাষ্ট্রদূত রেঞ্জি তেরিংক বলেন, এর আগে ৪টি সংলাপ হয়েছে।
ডায়ালগের উদ্বোধনী পর্বে রেঞ্জি তেরিংক বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে আইনি সংস্কার প্রক্রিয়া এখনও জটিল। নীতি কাঠামোর অনিশ্চয়তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল তদারকির মতো বাধাগুলো রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ যেহেতু উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে তাই ২০২১ সালের মধ্যে মানসম্মত বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বানও জানান তিনি।
বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত রেঞ্জি তেরিংক বলেন, বিডা ভালো করছে। যদিও বাংলাদেশে এখনও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের চিত্র আশাব্যাঞ্জক নয়। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্ধর ও ও ঢাকা বিমানবন্দর প্রধান গেটওয়ে হলেও তা বিনিয়োগবান্ধব নয়। ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি, তদারকি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে তা বাণিজ্যবান্ধব করা উচিৎ।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ইইউ-এর বাজারে এখন আমরা জিএসপি সুবিধা পাই। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হলে আমরা এ সুবিধা পাবো না। তাই আমরা জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে চাই।
‘এ সুবিধা পাওয়ার জন্য আমাদের ২৭টি কম্পোনেন্ট পূরণ করতে হবে। এসব কম্পোনেন্ট পূর্ণ করার ক্ষেত্রে ইইউ-এর সহযোগিতাও প্রয়োজন। ’
একই সঙ্গে রফতানি বাজারে বৈচিত্র্য আনতেও ইইউ-এর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
এর আগে সকাল ১১টায় সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ ডায়ালগ শুরু হয়। ব্যবসায়-বাণিজ্যের পরিবেশ নিয়ে ৫ম রাউন্ডের সভায় সভাপতিত্ব করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
এতে ইইউ-এর রাষ্ট্রদূত রেঞ্জি তেরিংকসহ আটটি দেশের রাষ্ট্রদূত এবং ইইউ বিজনেস সেক্টরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা)নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল হক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইইউভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশের রফতানির সবচেয়ে বড় অংশীদার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ইইউ দেশগুলোতে ২১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়; যা মোট রফতানির প্রায় ৫৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ইইউভুক্ত দেশে রফতানির ক্ষেত্রে ইবিএ’র (অস্ত্র ছাড়া বাকি সব পণ্য) আওতায় জিএসপি সুবিধা ভোগ করছে। তবে ইইউভুক্ত দেশগুলোর যেসব কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যবসা করছে তারা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের জন্য ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ডায়ালগ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এই উদ্যোগেও তেমন লাভবান হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৪৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৮, ২০১৯
আরএম/এমএ