আবার যদি কোনো ব্যক্তি একই অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃবার সংগঠন করেন তাহলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক তিন কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এমন বিধান রেখে সোমবার (৯ এপ্রিল) সংসদে বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
এরআগে গত ২৯ জানুয়ারি খসড়া আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা তথ্য-প্রযুক্তি আইন থেকে সরিয়ে সেগুলো আরও বিশদ আকারে যুক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে।
ডিজিটাল আইনে ৫৪ ধারায় অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতায় বলা হয়েছে, (ক) ১৭, ১৯, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৬, ২৭, ২৮, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ ধারার অপরাধসমূহ আমলযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য হবে।
এসব ধারায় যেসব অপরাধের কথা উল্লেখ আছে- ১৭ ধারায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে বে-আইনি প্রবেশ, (১৯) কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম ক্ষতিসাধন, (২১) মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আমলযোগ্যতা প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণা, (২৩) ডিজিটাল বা ইলেক্ট্রনিক প্রতারণা, (২৪) পরিচয় প্রতারণা বা ছদ্মবেশ ধারণ, (২৬) অনুমতি ব্যতিত পরিচিত তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার, (২৭) সাইবার সন্ত্রাসী কার্য সংঘটন, (২৮) ওয়েবসাইট বা কোনো ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে এমন তথ্য প্রকাশ, (৩০) আইনানুগ কতৃত্ব বহির্ভূত ই-ট্রানজেকশন, (৩১) আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, (৩২) কম্পিউটার বা ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তি (৩৪) হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ।
বিলে জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। ১১ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটিতে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সদস্য হিসেবে থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইজিপি, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক এবং সদস্য সচিব থাকবেন জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালক।
এছাড়া বিলে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিলে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের জন্য এজেন্সির অধীনে একটি জাতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থানেরও বিধান রাখা হয়েছে। বিলে সাইবার সন্ত্রাসী কাজের জন্য ১৪ বছর কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। একই অপরাধ যদি দ্বিতীয়বার করা হয় তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিলে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, সম্প্রচার ইত্যাদির জন্য ৩ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন বলে বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করা হলে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হবে। হ্যাকিং অপরাধের জন্য ১৪ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করা হলে যাবজ্জীবন বা ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। বিলে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও ডিজিটাল অপরাধসমূহের প্রতিকার, প্রতিরোধ, দমন, শনাক্তকরণ, তদন্ত ও বিচারের উদ্দেশ্যে এ আইন প্রণয়ন অপরিহার্য। সাইবার তথা ডিজিটাল অপরাধের কবল থেকে রাষ্ট্র ও জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান এ আইনের অন্যতম লক্ষ্য। এতে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নকে প্রকারান্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার পুনর্জাগরণ বলা যেতে পারে। এই মহান স্বপ্নদ্রষ্টার সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারই যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অন্যতম সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশ সময়: ২০৪৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৯, ২০১৮
এসএম/এএ