ময়মনসিংহ: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভিসিসহ দুই শতাধিক শিক্ষককে টানা সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ রেখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।
এর জেরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ভিসি ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে বাকৃবির একাডেমিক কাউন্সিলে অবরুদ্ধ হওয়ার টানা সাত ঘণ্টা পর বের হতে পেরেছেন ভিসি ও শিক্ষকরা।
এর আগে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে এবং বাকৃবির একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নেওয়া পৃথক ডিগ্রির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সভাস্থলে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
ফলে দুপুর ১টা থেকে বাকৃবি উপাচার্যসহ দুই শতাধিক শিক্ষক অবরুদ্ধ ছিলেন। পড়ে রাত ৮টার দিকে লাঠিসোটা নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান বহিরাগতরা। এতে নারীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ২৫২ জন শিক্ষক নিয়ে টানা আড়াই ঘণ্টা শান্তিপূর্ণ সভায় শিক্ষার্থীদের শতভাগ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এরপরও কেন অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ। শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, প্রক্টর কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। সর্বশেষ রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমার বাসভবনেও ভাঙচুর করা হয়েছে।
ভিসি বাংলানিউজকে আরও বলেন, মূলত ফ্যাসিস্ট দোসররা শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, বাকৃবির পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবি মেনে নেওয়া হয়। পাশাপাশি পশুপালন (বিএসসি এএইচ) ও ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) উভয় ডিগ্রিই বহাল রাখা হয়েছে। তবে এক সেক্টরে তিন ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছেন না আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা এক পেশায় এক ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের শিক্ষক অংশ নেন। সভা শেষে ঘোষণা দেওয়া হয় যে আগামী সেশন থেকে কম্বাইন্ড কোর্সে ১৫০ জন, ভেটেরিনারিতে ৫০ জন এবং পশুপালনে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে। এরই মধ্যে যারা ভর্তি হয়েছেন, তাদের জন্য অপশন থাকবে-তারা চাইলে ভেটেরিনারি, পশুপালন বা কম্বাইন্ড যে কোনো একটিতে ডিগ্রি নিতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী দুই অনুষদ একীভূত করা সম্ভব নয়; তবে দুই অনুষদ মিলিতভাবে কম্বাইন্ড ডিগ্রি দেবে এবং পালাক্রমে দুই অনুষদ থেকেই ডিন নির্বাচিত হবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান সরকার জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কাউন্সিলে সবার সম্মতিতে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ককে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা দ্রুত কম্বাইন্ড কোর্সের জন্য নতুন কারিকুলাম তৈরি করবেন। মেকআপ কোর্সের কারিকুলামও প্রস্তুত করা হবে।
তবে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়ে সভাস্থলে তালা লাগিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।
ভেটেরিনারি অনুষদের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ২৫ জুলাই থেকে যৌক্তিক দাবি নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি। অথচ আজকের সিদ্ধান্তে দেখা গেল তিনটি ডিগ্রিই বহাল রাখা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার যেখানে কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে, সেখানে শিক্ষকদের এ সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
এসআই