ঢাকা, শনিবার, ২৯ ভাদ্র ১৪৩২, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

জাতীয়

দুর্গাসাগরের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০:১৪, মে ১৯, ২০১৯
দুর্গাসাগরের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

বরিশাল: বরিশালের বাবুগঞ্জের মাধবপাশা এলাকায় ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর দিঘির হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নানান উদ্যোগ হাতে নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

পাশাপাশি দুর্গাসাগর দিঘিকে পর্যটনের একটি বড় স্পট হিসেবে গড়ে তুলতে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রেখে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, পাখিদের অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন জেলা প্রশাসক।

সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দুর্গাসাগরের চারপাশের গাছে গাছে হাঁড়ি বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর দিঘিতে এরইমধ্যে ৪০০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও ১০০টি দেশিও প্রজাতির হাঁস অবমুক্ত করা হয়েছে।  

এর আগে ২০১৬ সালে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে এখানে দু’টি হরিণ আনা হয়েছিল, নেওয়া হয়েছিল নানান উদ্যোগ। তবে নানান কারণে কিছুদিন পরে সেসব উদ্যোগ আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। যদিও পর্যায়ক্রমে হরিণের সংখ্যা বেড়ে এখন ছয়টিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার দুর্গাসাগর দিঘিকে তার হারানো জৌলস ফিরিয়ে দিতে দ্রুত কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সম্পৃক্ত থাকায় দিঘিকে নিয়ে চলমান কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই।

ধারাবাহিকতায় অল্প কিছুদিনের মধ্যে দুর্গাসাগরে বানর আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ১০০টি কবুতর, আরো ১০০টি হাঁস এবং ১৫টি রাজা হাঁসও আনা হচ্ছে। এছাড়া পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দিঘির শোভাবর্ধন ও উন্নয়নে ১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের বরাদ্দও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগরকে পাখিদের অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তুলতে গাছে হাঁড়ি বাধা, দিঘিতে মাছ অবমুক্তকরণ, হাঁস ছাড়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।  

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জেলা প্রশাসক জানান, চলতি মাসে দুর্গাসাগরের উন্নয়নে একটি বড় প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এছাড়া অতিসম্প্রতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম দিঘির চারপাশ ঘুরে দেখেছেন। এসময় প্রতিমন্ত্রী দুর্গাসাগরকে পর্যটনের একটি বড় স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রেখে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।

সূত্র মতে, বরিশাল শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে বরিশাল-স্বরূপকাঠি আঞ্চলিক সড়কের পাশে মাধবপাশা ইউনিয়ন। ওই ইউনিয়নের মাধবপাশা গ্রামে ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর দিঘির অবস্থান। দিঘির জলাভূমির আয়তন ২৭ একর। এর চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন বৃক্ষ শোভিত বন। সবমিলিয়ে দুর্গাসাগরের আয়তন ৪৫ দশমিক ৪২ একর। দিঘির মধ্যখানে রয়েছে গাছগাছালিতে ছায়া দৃষ্টিনন্দন দ্বীপ। এ দিঘিতে প্রতিবছর শীতে হাজারো পরিযায়ী পাখির সমাগম ঘটে। পাখির কলরবে মুখর থাকে ওই এলাকা। কিন্তু ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাখির আগমন কমতে থাকে। আর এখন শীতে হাতে গোনা কিছু সংখ্যক পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে।

সূত্রে আরো জানা গেছে, ১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ণ এ বিশাল জলাধার খনন করেন। তার স্ত্রী দুর্গামতির নাম অনুসারে খনন করা হয় দুর্গাসাগর দিঘি। পরে দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়েছিল দিঘিটি। ১৯৭৪ সালে সরকারি উদ্যোগে দিঘিটি পুনঃসংস্কার করা হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্গাসাগরকে পাখির অভয়াশ্রম ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসেই দুর্গাসাগর উন্নয়নে বড় একটি প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০০৯ ঘণ্টা, মে ১৮, ২০১৯
এমএস/আরবি/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।