রোববার (২৮ এপ্রিল) বিচারপতি হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল গঠিত সমন্বয় বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
এর আগে ১৮ এপ্রিল চেম্বারের সদস্য সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এরিস্টেট গ্রুপের (সারেগ) প্রতিনিধি তাহমিন আহমদ উচ্চ আদালতে রিট করেন।
৩১ মে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সদস্য হওয়ার অযোগ্য ৪০ শতাংশ ব্যবসায়ীকে ভোটার করা হয়। এ নিয়ে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা সরজমিনে সিলেট চেম্বার পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদনে ৪০ শতাংশ সদস্যই ভুল তথ্য ও জালিয়াতি করে সংগঠনটির ভোটার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
এরপর ৪ এপ্রিল চেম্বার সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ কমিটির মেয়াদ তিন মাসের জন্য বৃদ্ধি করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। ওই চিঠিতে ভোটার তালিকা সংশোধনক্রমে নির্বাচনের মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর সুপারিশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।
মন্ত্রীর সুপারিশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চেম্বারের বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়িয়ে নির্বাচনী বোর্ড ও আপিল বোর্ড পুণর্গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেয়।
এরপর ২৫ এপ্রিল সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড ও আপিল বোর্ড পুণর্গঠন করা হয়।
আগে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান বিজিত চৌধুরী থাকলেও পরে তাকে বাদ দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিনকে চেয়ারম্যান করা হয়। একইভাবে অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলামকে বাদ দিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনকে আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়।
এ ব্যাপারে রিটকারী ব্যবসায়ী তাহমিন আহমদ বাংলানিউজকে বলেন, ভুয়া ভোটার প্রমাণিত হওয়ার পরও নির্বাচন আয়োজনের তোড়জোড়ে আমরা আদালতের শরনাপন্ন হয়েছিলাম। আদালত চেম্বারের সকল কার্যক্রম স্থগিত করে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়কে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সিলেট চেম্বারের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বিজিত চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, বড় এক ব্যবসায়ীর করা আবেদনে চেম্বারের সকল কার্যক্রম স্থগিত করার কথা জানতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, ভুয়া তথ্য দিয়ে ভোটার করার বিষয়টি ধরেছি আমরা। চোরকে চোর বলাতে চেম্বার নেতারা আমার উপর নাখোশ। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও অনিয়মের প্রমাণ পায়। আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চেম্বার সভাপতির করা আবেদনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য তিন মাস সময় বৃদ্ধি ও ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য বলেছেন। বোর্ড পূণর্গঠনের জন্য বলেননি। এর প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রনালয় তিন মাসের সময় বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু চেম্বার নেতারা তোড়জোড় করে নির্বাচন ও আপিল বোর্ড পুণর্গঠন করেছেন।
এ ব্যাপারে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এর আগে ২৩ মার্চ ‘ভোটার তালিকায় ‘গলদ’ সিলেট চেম্বার অব কমার্সে’ শিরোনামে বাংলানিউজকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সদস্যের তদন্ত কমিটি সিলেট চেম্বারের এই অনিয়ম তদন্ত করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২০ এপ্রিল ‘সিলেট চেম্বারে ৪০ শতাংশ অযোগ্য ভোটার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে বাংলানিউজ।
বাংলাদেশ সময়: ০৭৩৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ৩০, ২০১৯
এনইউ/এসএ