বিষয়টি স্বীকার করে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, খালটি খনন করা হলে বর্তমানে বিদ্যমান অবস্থার চেয়ে সংকুচিত হয়ে পড়বে- এটা সত্য। কিন্তু দখলমুক্ত করতে না পারার কারণেই মূলত এ পরিকল্পনা হাতে নিয়ে মরা খালটি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে দখলমুক্ত করে ডিএস খতিয়ান অনুযায়ী খননের মাধ্যমে প্রাণসায়ের খাল পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাতক্ষীরা শহরবাসী। এছাড়া খাল খননের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে শহরবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয় সৃষ্টি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল, জলাশয় খনন শীর্ষক প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের আওতায় সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের খাল খননের জন্য দু'টি প্রকল্পে ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্যাকেজ-১-এ খেজুরডাঙ্গা থেকে নারকেলতলা ব্রিজ পর্যন্ত এবং প্যাকেজ-২-এ নারকেলতলা ব্রিজ থেকে এল্লারচর পর্যন্ত খনন করা হবে।
দখলমুক্ত না হওয়ার কারণে খালের বটম (তলদেশ) ১০ ফুট ও টপ (উপরে) ৪৫ ফুট করে খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দপ্তরটির দাবি, এর বেশি খনন করা হলে বিভিন্ন জায়গায় যারা দখল করে আছে তারা বাধার সৃষ্টি করবে। ফলশ্রুতিতে কাজটি বন্ধ হয়ে যাবে।
শহরবাসীর অভিযোগ, খালটির তলদেশ বর্তমানেই কোথাও বিশ ফুট, কোথাও ৩০ ফুট বা তার বেশি চওড়া রয়েছে। বর্তমানে খননের যে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে তাতে খালটি বর্তমানের অবস্থা থেকে আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে। খাল রূপান্তরিত হয়ে পরিণত হবে নর্দমায়। এর আগে যেমনটি হয়েছে মরিচ্চাপ নদী।
নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের আহবায়ক অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু বাংলানিউজকে বলেন, ১০ ফুটের তলদেশ রেখে খাল খনন করা হলে সেই খাল দিয়ে কতটুকু পানি নিষ্কাশন করা যাবে তা প্রশ্নবিদ্ধ। এই পরিকল্পনা নিয়ে খাল খনন করা হলে আমাদেরকে পানির নিচে থাকতে হবে। সাথে সাথে খালের অস্তিত্ব তো একেবারেই বিলীন হয়ে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক ভূমি কর্মকর্তা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু পরিকল্পনা করতে পারে, দখলদারিত্ব তো উচ্ছেদ করতে পারে না। তবে প্রশাসন পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই এই দখলবাজদের অপসারণ করে খালটি আরও চওড়া করে খনন করা যাবে।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আনিছুর রহিম বলেন, সাতক্ষীরা শহরকে সুন্দর করার জন্য এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এই খাল খনন করা হয়েছিল। বিভিন্ন দখলদারিত্বের কারণে খালের অবস্থা সংকটাপন্ন। জেলা প্রশাসক বর্তমান সীমানা বজায় রেখে খাল খননের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি এই ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে কাজটি দেখলে অবশ্যই খালটি রক্ষা হবে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়নের বোর্ড-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, খালটি খননের জন্য আমাদের চেষ্টার কোন ঘাটতি নেই। কিন্তু দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করা আমাদের কাজ নয়। যেহেতু খালটি এখনো দখলমুক্ত করা হয়নি, সেহেতু খালের পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে খালটি দখলমুক্ত করে দেওয়া হলে নান্দনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বাংলানিউজকে বলেন, খালটি খননের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাদ্দ অনুযায়ী ডিজাইন করবে। খালের জায়গা যারা দখল করেছে ইতোমধ্যেই তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ০০৫৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ৩০, ২০১৯
এইচএমএস/