সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের জন্য নিজ বাড়িতে আনা হয়।
এর আগে রোববার (২৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নদী থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা।
আত্মহননকারী হতভাগা মনোয়ারা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররুপপুর নওদাপাড়া এলাকার আকমল ফকিরের স্ত্রী।
পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম শহীদ বাংলানিউজকে জানান, রোববার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী -কুষ্টিয়া মহাসড়কের লালনশাহ সেতুতে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর র্যালিংয়ের সঙ্গে মনোয়ারার ব্যবহৃত ওড়না বাঁধা রয়েছে। পাশেই স্যান্ডেল ও মোবাইল ফোনটি পড়ে আছে। অবিরাম বেজে চলেছে ফোনটি।
পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস তার পরিবারের বরাত দিয়ে বাংলানিউজকে জানান, অনেক কষ্ট করে কিছু জমির মালিক হয়েছিলেন মনোয়ারা-আকমল ফকির দম্পতি। বড় ছেলে শামসুল অন্য এক ভাই ও এক বোনকে বঞ্চিত করে মা-বাবার থেকে সমস্ত সম্পতি লিখে নেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তারা তা দিতে না চাওয়ায় শুরু করেন শারীরিক নির্যাতন আর ভৎর্সনা।
রোববার (২৭ এপ্রিল) নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান মনোয়ারা বেগম। এরপর খবর আসে তিনি লালন শাহ সেতুর উপর থেকে পদ্মা নদীতে লাফিয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং মেয়ের জামাই মনোয়ারাকে উদ্ধারের চেষ্টায় নদীতে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদস্য, স্থানীয়ভাবে জেলে ও আত্মীয় স্বজন নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নেয়া হয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ থানায় নিয়ে যায়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দীন ফারুকী বাংলানিউজকে জানান, এ ব্যাপারে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্হা নেওয়া হবে। তবে নিহতের ছেলে শামসুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা আনা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২০০৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৯, ২০১৯
আরএ