এক সপ্তাহ ধরে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে দেশের পশ্চিম, দক্ষিণ, মধ্যাঞ্চলের উপর দিয়ে। তবে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোথাও বৃষ্টি বা কোথাও স্বাভাবিক রয়েছে তাপমাত্রা।
পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা প্রায় তীব্র তাপপ্রবাহের (৪০ ডিগ্রি সেলিসিয়াসের বেশি) দিকে এগোচ্ছে। আর ঢাকায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও গত কয়েকদিনের তুলনায় কমেছে গরম অনুভূতি।
আবহাওয়া অফিস বলছে, গরম অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বাতাসের গতি ও গতির দিকের। মূলত, শরীর থেকে ঘাম শুকাতে না পারলে গরম অনুভূতি বেশি হয়। ঢাকায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও বাতাস এ কয়দিন তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু সোমবার (২৯ এপ্রিল) বাতাসের গতি বেশি হওয়ায় শরীরের ঘাম জমছে কম ও গরম অনুভূতিও হচ্ছে কম।
তাপপ্রবাহ ও বায়ুর প্রবাহের এ অবস্থা দেশজুড়ে আরও দু’দিন থাকবে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে তাপপ্রবাহের তেমন একটা হেরফের হবে না। দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে বা বাড়তে পারে। এদিক থেকে রাজশাহী অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলিসিয়াস। আর ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলিসিয়াস।
তিনি বলেন, সিলেট, ময়মনসিংহ অঞ্চলে কালবৈশাখীর আভাস রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য অঞ্চলে আপাতত বৃষ্টির কোনো আভাস নেই।
ঘূর্ণিঝড় ফণি সম্পর্কে আবহাওয়া অফিস বলছে, এটি ধীরে ধীরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে এটি আরও কাছাকাছি এলে বোঝা যাবে, এর গতি বাংলাদেশের উপকূলের দিকে কিনা। তখনই বলা যাবে, এটি আমাদের জন্য কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ।
আব্দুল মান্নান বলেন, ফণি নিয়ে আপাতত শঙ্কার কিছু নেই। এর গতিমুখ এখনো ভারতের উপকূলের দিকে। তবে গভীর সমুদ্রে আমাদের জন্য চিন্তার বিষয় আছে। এজন্য দুই নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ একেএম রুহুল কুদ্দুছ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- সোমবার দুপুর ১২টায় ফণি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১ হাজার ৫৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ আছে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে দুই নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এজন্য উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরা সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৯, ২০১৯
ইইউডি/জেডএস