ঢাকা, রবিবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

জাতীয়

সোনাগাজীর সেই ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ মে 

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২:১৩, এপ্রিল ৩০, ২০১৯
সোনাগাজীর সেই ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ মে 

ঢাকা: ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ধারণ ও তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য ২৭ মে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।  

মঙ্গলবার(৩০ এপ্রিল) এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া কথা ছিলো। কিন্তু পিবিআই তা দাখিল করেনি।

পরে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আসসামছ জগলুল হোসেন প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ২৭ মে নতুন দিন  ধার্য করেন।

বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শামীম।

গত ১৫ এপ্রিল একই ট্রাইব্যুনালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এ মামলাটি দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনাল তার জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন।  

সেই সঙ্গে মামলাটি ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত করে ৩০ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাত জাহান রাফির মা।  

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ সিরাজ তার কার্যালয়ের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রী নসুরাতকে ডেকে পাঠান।  

পরীক্ষার আধঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন তিনি। পরে বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে জানানো হয়। এক পর্যায়ে নুসরাতের মায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন সিরাজ।

পরে অভিযোগ করতে সোনাগাজী থানায় গেলে তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেমের কক্ষে হয়রানির শিকার হতে হয় নুসরাতকে। ওসি নিয়ম না মেনে জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন।  

মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।  

যৌন হয়রানির অভিযোগ করার সময় ভিডিও ধারণের ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে এই মামলা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার আগ মুহূর্তে সহপাঠীকে মারধর করা হচ্ছে-এ ধরনের মিথ্যা কথা বলে নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে যেতে বলা হয়। সেখানে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে নুসরাতকে চাপ দেয় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা।  

কিন্তু মামলা প্রত্যাহারের অস্বীকার করায় নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বেলে দেয় তারা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৮০৬ ঘন্টা, এপ্রিল ৩০, ২০১৯
এমএআর/এমএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।