ঢাকা, রবিবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

জাতীয়

হবিগঞ্জে হাওর-নদীর পানিতে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১:০৫, এপ্রিল ৩০, ২০১৯
হবিগঞ্জে হাওর-নদীর পানিতে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া

হবিগঞ্জ: গৃহস্থালি, ক্লিনিক এবং শিল্পবর্জ্যে দূষিত পানির প্রবাহে হবিগঞ্জের হাওর ও নদীর পানিতে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। হাওরে পানির প্রবাহ কম থাকাও এর অন্যতম কারণ। ফলে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া এ অঞ্চলে প্রতি বছর ২০ মিলিমিটার করে বৃষ্টির পরিমাণ কমছে। এতে করে ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জ হচ্ছে না সঠিকভাবে।

হবিগঞ্জ সদর, মাধবপুর ও নবীগঞ্জ উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ইতোমধ্যে নিচে নেমে গেছে। তাই উপরিভাগের পানি ব্যবহার বাড়ানোর জন্য খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিতে হবে।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতরের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) উদ্যোগে ‘হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ভূগর্ভস্থ এবং উপরিস্থ সেচ কাজের পানির অনুসন্ধানের জন্য সমীক্ষা’ শীর্ষক প্রকল্পের এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ হাওর এবং জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতরের পরিচালক ও এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কেএম আব্দুল ওয়াদুদ এতে সভাপতিত্ব করেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতরের মহাপরিচালক মজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহমুদুল কবীর মুরাদ ও আইডব্লিউএম’র নির্বাহী পরিচালক ড. এম মনোয়ার হোসেন।

সাড়ে ৩ বছর ধরে চলা সমীক্ষা নিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইডব্লিএম’র সিনিয়র স্পেশালিস্ট গৌতম চন্দ্র মৃধা। আলোচনায় অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক ফজলুল জাহিদ পাভেল ও এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাকির সেকান্দার।
হবিগঞ্জের হাওর ও নদী
কর্মশালায় জানানো হয়, সারা দেশেই পানি ব্যবস্থাপনা একটি বড় সমস্যা। খাল খনন কর্মসূচি বেসিন ভিত্তিক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে। দেশে এক সময় ৭শ’ বেশি নদী ছিল। বর্তমানে রয়েছে ৪শ’ মত। দেশের নদীগুলোর পানির উৎস ৯৩ শতাংশ দেশের বাহিরের আর অভ্যন্তরীণ বৃষ্টি থেকে আসে মাত্র ৭ শতাংশ। সমন্বয়হীনতার জন্য পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে। দেশে প্রতি কেজি ধান আবাদে সাড়ে ৩ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন। অথচ এর ৫ ভাগের এক ভাগ দিয়ে ভুট্টা আবাদ সম্ভব। এখন পানির সংকট মোকাবেলায় শস্যের বহুমুখীতার বেশি প্রয়োজন।

আরও জানানো হয়, হাওর এলাকার ছয়টি জেলায় সাড়ে ৩ বছর ধরে সমীক্ষা হয়েছে। এখন বিভিন্ন জেলায় কর্মশালা হচ্ছে। সব কর্মশালার মতামতকে একত্রিত করে জাতীয় পর্যায়ে সেমিনার হবে। দেশকে বাঁচাতে হাওরকে হাওরের মতো রাখতে হবে। কোনো বাধা রাখা যাবে না।

ঢাকার বুড়িগঙ্গার পানি সমস্যা নিয়ে কর্মশালায় জানানো হয়, এ নদীর সব দূষণ যদি বন্ধ করা যায় তারপরও আরও ২০ বছর প্রয়োজন হবে এই পানিকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে। এখন ঢাকার পানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। এ ধরনের সংকট থেকে বাঁচতে বহুলোক নগর ছেড়ে চলে যায়। এভাবে বিলুপ্ত হয়েছে হরপ্পা আর মহেঞ্জোদারোর মতো বহু সভ্যতা। কিন্তু ঢাকার মানুষের যাওয়ার জায়গা নেই। তাই আমাদের এখনই ভাবতে হবে কিভাবে উপরিভাগের পানি ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

বাংলাদেশ সময়: ১৭০৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ৩০, ২০১৯
জিপি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।