ঢাকা: উন্নয়নের মূল টার্গেট হওয়া উচিত শিক্ষিত এবং সুস্থ জাতি গঠন বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সাইদুর রহমান।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ আরবান ইয়ুথ কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।
আইপাস বাংলাদেশের ইম্প্রুভিং এসআরএইচআর ইন ঢাকা প্রকল্পের উদ্যোগে কানাডা সরকারের অর্থায়ন ও হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কনফারেন্সে অংশ নেন সরকারি নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি, চিকিৎসক, গবেষক, সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি, প্রকল্প সহযোগী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা এবং প্রকল্পের প্রায় পাঁচ শতাধিক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সাইদুর রহমান। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে রূপান্তরের পথে হাঁটছে, যার কেন্দ্র হলো উন্নয়ন, উন্নয়নের কেন্দ্রে আছে স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য উন্নয়নের কেন্দ্রে আছে তরুণদের স্বাস্থ্য এবং অবদান। উন্নয়নকে নানাভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়, তবে উন্নয়নের মূল টার্গেট হওয়া উচিত শিক্ষিত এবং সুস্থ জাতি গঠন।
কনফারেন্সে উপস্থিত একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তোমরা নিজেরা স্বাস্থ্যের যত্ন নেবে, পাশাপাশি পরিবার-পরিজন সর্বোপরি সমাজের যত্ন নেবে।
নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. মো. সাইদুর রহমান বলেন, আমরা মনে করি জেলা এবং তার নিচে উপজেলা এবং তার নিচে মানে উপজেলার ইউনিয়ন পর্যন্ত খুবই ভালো আমাদের একটা স্বাস্থ্য কাঠামো আছে। কিন্তু নগরাঞ্চলে জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে এখানকার চিত্র কিছুটা ভিন্ন।
অনুষ্ঠানে তিনি তরুণদের আগামীদিনের স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান।
কানাডিয়ান হাইকমিশন, বাংলাদেশ-এর ফার্স্ট সেক্রেটারি (ডেভেলপমেন্ট-হেলথ) অ্যাডওয়ার্ড ক্যাব্রেরা সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, নগর স্বাস্থ্য ও যৌন ও প্রজনন অধিকার উন্নয়নে তরুণদের অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়। কানাডা সবসময় নারীর ক্ষমতায়ন ও তরুণদের নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে নগর স্বাস্থ্য ও অধিকার উন্নয়নে কাজ করছে। ইমপ্রুভিং এসআরএইচআর ইন ঢাকা প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের সাহসী ভূমিকা এরই মধ্যে কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। কানাডা অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জেন্ডার সমতা অর্জনে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
সকালের সেশনে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে নগর প্রেক্ষাপটে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার বিষয়ক বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় উঠে আসে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ততা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কমিউনিটিভিত্তিক প্রচেষ্টা, স্কুলভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রমসহ নানা অভিজ্ঞতা।
এরপর অনুষ্ঠিত হয় ব্রেকআউট সেশন, যেখানে তরুণ অংশগ্রহণকারীরা চারটি দলে বিভক্ত হয়ে নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সুপারিশ তৈরি করে। এসব প্রস্তাবনা থেকেই গৃহীত হয় “ঢাকা ডিক্লারেশন ২০২৫”, যা ভবিষ্যৎ নীতি প্রণয়নে তরুণদের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে প্রতিফলিত করে।
কনফারেন্সে ছিল ফটোভয়েস প্রদর্শনী ও এডুটেইনমেন্ট পারফরম্যান্স, যেখানে ছবি, গল্প ও মঞ্চনাটকের মাধ্যমে তরুণরা নগর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।
আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. সাইদ রুবায়েত তার বক্তব্যে বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার একটি মৌলিক অধিকার হলেও তা এখনও সামাজিকভাবে অবহেলিত। এ প্রেক্ষাপটে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণ শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা, সেবা-সংযোগ এবং একটি টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি তরুণদের উদ্যোগ ও সুপারিশ নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
আরকেআর/জেএইচ