পাবনা (ঈশ্বরদী): পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত দুই বন্ধু চারদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দিনগত রাতে মারা গেছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিনগত রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নয়ন হোসেন (১৭) রাত ২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মো. হৃদয় হোসেন (১৭) মারা যায়।
নয়ন হোসেন গাইবান্ধা জেলার মো. কামাল হোসেনের ছেলে এবং ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের বাড়াহুসিয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের নাতি। সে নানার বাড়িতে থেকে স্কুলে পড়াশুনা করত।
হৃদয় হোসেন ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর পূর্বপাড়া গ্রামের হাদিস ব্যাপারীর ছেলে।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন (৩১ মার্চ) বিকেলে মোটরসাইকেল নিয়ে দুই বন্ধু ঘুরতে বের হয়। একপর্যায়ে তারা পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার খিদিরপুর দেবত্তর সড়কের বেরুয়ান সরাবারিয়া নামক স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তারা গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আটঘরিয়া হাসপাতালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এদিকে নয়নের অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং হৃদয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
দাশুড়িয়া দরগা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে বাংলানিউজকে জানান, নয়ন ও হৃদয় দুজনই ১০ এপ্রিল থেকে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। দুই বন্ধুর মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, তাদের মরদেহ এখনো হাসপাতালে রয়েছে। দুপুরের মধ্যে মরদেহ আনার চেষ্টা চলছে। দুই বন্ধুকে একসঙ্গে খালিশপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০২৫
আরএ