ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

শিক্ষা

ডাকসু নির্বাচন: আটঘাট বেঁধে নেমেছে ছাত্রদল

ফাহিম হোসেন, ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪:৪১, আগস্ট ২৯, ২০২৫
ডাকসু নির্বাচন: আটঘাট বেঁধে নেমেছে ছাত্রদল গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার বটতলা থেকে ডাকসু নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ। ছবি: বাংলানিউজ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ছাত্রদল। এবারের ডাকসু নির্বাচনে জয়ী হতে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

তাদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। দলটির মিডিয়া সেলও রয়েছে পাশে।

নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা, প্রচারণা, গণমাধ্যম সমন্বয়, নিজ সংগঠনের প্রার্থীর আচরণবিধি খেয়াল রাখতে এবং অন্য প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগসহ নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় দেড় ডজন কমিটি করেছে ছাত্রদল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে সবার আগে ইশতেহারও ঘোষণা করে দিয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল।

গত কয়েকদিন ছাত্রদলের কার্যক্রম বিবেচনায় দেখা যায়, ভোটারদের কাছে টানতে সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছেন ছাত্রদল সমর্থিত আবিদ-হামীম-মায়েদ পরিষদের প্রার্থীসহ অন্য নেতাকর্মীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন, ভোট ও দোয়া চাইছেন। একইসঙ্গে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাঠের আন্দোলনে সক্রিয় থেকে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন ছাত্রদলের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। ছাত্রদল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি অনলাইন ও অফলাইনে আরও বেশি সক্রিয় হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিজের দেওয়া বক্তব্য পুনরায় ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট করছেন তিনি। এর বাইরে আবিদ একক ভিডিওবার্তা তৈরি করে তা প্রকাশ করছেন অনলাইনে।

অভ্যুত্থানে এবং এর আগের বিভিন্ন আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে আবিদুল ইসলামসহ অন্যদের অবদান তুলতে ধরতে ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। বিএনপির মিডিয়া সেল, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, ছাত্রদলের অনলাইন পেজ এবং ছাত্রদল নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য পেজ থেকে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচনে তাদের প্রার্থীদের পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ছাত্রদলের একাধিক প্রার্থী জানান, নির্বাচনে প্রচারণা শক্তিশালী করতে তাদের জন্য একটি নিজস্ব প্রচারণা টিম কাজ করছে। এর বাইরেও অনেকে পরিচিত জুনিয়র বা বন্ধুদের সহায়তায় কাজ প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এসব টিমের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের জন্য ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন বক্তব্যের কোটকার্ড তৈরি করছেন। এগুলো পরে প্রার্থী ও নেতাকর্মী, সমর্থকরা  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের জন্য এরকম একটি টিম কাজ করছে। বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন তিনি। এ ছাড়া এজিএস প্রার্থী শেখ তানভীর আল হাদী মায়েদের জন্য তার পরিচিত অনেকে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

এজিএস প্রার্থী মায়েদ বাংলানিউজকে বলেন, কেন্দ্র থেকে প্রচারণার কাজে লিফলেটসহ অন্যান্য কাজ করছেন। অন্যদিকে প্রার্থীরা নিজ উদ্যোগেও প্রচারণার জন্য টিম নিয়ে কাজ করছেন।

বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে কয়েকজনকে ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণায় সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এসব উদ্যোগের বাইরে অনলাইনে প্রার্থীদের ভাবমূর্তি বাড়াতে কাজ করছেন ছাত্রদলের একাধিক নেতা। তারা প্রার্থীদের বিগত সময়ের বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত থাকার ছবি, ভিডিও, নির্যাতনের শিকার হওয়া ছবি সংগ্রহ করে প্রত্যেক প্রার্থীর আলাদা প্রোফাইল তৈরি করছেন।  

প্রচারণার একটি টিমে কাজ করছেন ছাত্রদলের শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক শাহরিয়ার হামীম। তিনি বলেন, নেতাদের বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা, জেলে যাওয়া, নির্যাতিত হওয়ার ছবি নিয়ে আমরা তাদের প্রোফাইল করছি। যেকোনো সময় এখান থেকে তথ্য-ছবি ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো যাবে। নিজ উদ্যোগেই করছি

ছাত্রদলের দেড় ডজন কমিটি- টিম

ছাত্রসংসদ নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করতে কেন্দ্র এবং বিভিন্ন হল মিলিয়ে দেড় ডজন কমিটি করেছে ছাত্রদল। কমিটিগুলোকে নির্দিষ্ট কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

ডাকসু ও হল সংসদে পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও করা হয়েছে। এতে রয়েছে, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শ্যামল মালুম, দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসী আল তামী।

এই কমিটি প্যানেলের প্রচারণা ও পরিচালনাবিষয়ক সব কার্যাবলী পর্যালোচনা এবং তত্ত্বাবধানের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছে।

আরও পড়ুুন: ছাত্রদল জয়ী হলে গেস্টরুম কালচার ফিরবে না: রাকিব 

ক্যাম্পাসভিত্তিক গণমাধ্যম সমন্বয় কমিটিতে রয়েছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাওন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামিম আকতার শুভ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন।

আইন ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিও করা হয়েছে। এসব কমিটির বাইরে বিভিন্ন হলে কার্যক্রম পরিচালনা করতে ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং শিক্ষার্থী নিয়ে ১৪টি টিম গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ও টিমগুলো হলভিত্তিক সার্বিক প্রচারণা ও তত্ত্বাবধানের কাজ করছে।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে প্রচারণার জন্য ছাত্রদল থেকে দুটি কমিটি করা হয়েছে। একটিতে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন রয়েছেন।

অন্যটির নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাওন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামিম আকতার শুভ। এসব টিম ও কমিটি ডাকসুকে কেন্দ্র করে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

কমিটির কার্যাবলির বিষয়ে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রার্থীরা ব্যস্ত থাকেন। ফলে গণমাধ্যমের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রক্ষার কাজ করি। গণমাধ্যমে আমাদের যেসব কাভারেজ যাচ্ছে, তা নজরে রাখছি।

প্রচার টিমের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে দুটি অঞ্চলে ভাগ করে নিয়েছি; উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চল। এর মধ্যে আমরা চারুকলা, টিএসসি সড়কদ্বীপ, রোকেয়া হলের পাশে বাস স্টপেজ, কলাভবন, শ্যাডো, এফবিএস, ভিসি চত্বর, মলচত্বর, আইইআরে লিফলেট বিলি করছি।

এ ছাড়া প্রার্থীদের প্রচারণার কাজে ছাত্রদলের কেন্দ্র এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচার সেল একসঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এর বাইরে নিজস্ব উদ্যোগেও প্রার্থীরা কাজ করছেন।

সবার আগে ইশতেহার

প্যানেল ঘোষণায় কিছুটা দেরি করলেও সবার আগে ইশতেহার দিয়েছে ছাত্রদল। ১০ দফা ইশতেহারে জায়গা পেয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ বিষয়। এর মধ্যে ভর্তির দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য 'এক সিট, এক টেবিল' দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে এক সিট ও এক টেবিল দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।

নারী শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের সময়সীমা বৃদ্ধি, অন্য হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থা দূর করা এবং প্রভোস্টের অনুমতি সাপেক্ষে রাতে হল থেকে বের হওয়ার নিয়ম সহজীকরণের কথা ইশতেহারে বলেছে ছাত্রদলের প্যানেল।

ডাকসুকে ক্যালেন্ডারভুক্ত করা, বাস রুট বৃদ্ধি, আপ ট্রিপ রাত ১২টা পর্যন্ত, ডাউন ট্রিপ রাত ৯টা পর্যন্ত করার কথা বলেছে ছাত্রদল। সামাজিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ, ক্যাম্পাস এরিয়া তিনটি জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ একাধিক বিষয়ের কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ছাত্রদল।

দলের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ডাকসুর প্রতি বরাবর আমাদের একটি ইতিবাচক মনোভাব ছিল এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ডাকসুর আমেজ, তাও আমরা নিয়ে এসেছি।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে থেকে কী ধরনের কাজ করছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রচার-প্রচারণা তদারকি করা এবং সহযোগিতা করার কাজ আমরা করছি। আমরা সেভাবেই নির্দেশনা দিচ্ছি, শিক্ষার্থীদের মনোভাব ধারণ করেই যেন প্রচার-প্রচারণা করা হয়।

এফএইচ/এমইউএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

শিক্ষা এর সর্বশেষ