ঢাকা, রবিবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

খেলা

ফুটবলে নতুন করে উন্মাদনা ছড়ানোর প্রত্যয় আসিফের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট স্পোর্টস  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১:১৭, আগস্ট ৩০, ২০২৫
ফুটবলে নতুন করে উন্মাদনা ছড়ানোর প্রত্যয় আসিফের

দেশজুড়ে নতুন করে ফুটবলের উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) যৌথভাবে আয়োজন করেছে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫। ‘তারুণ্যের উৎসব’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এ আসরে অংশ নেবে দেশের ৬৪ জেলা।

শনিবার (৩০ আগস্ট) মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘তারুণ্যের উৎসব আয়োজন করার মূল লক্ষ্য হচ্ছে তরুণদেরকে সমাজের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসা এবং তাদেরকে খেলাধুলার মতো ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা। খেলাধুলার মাধ্যমে আমরা তরুণদের মাদক ও অন্যান্য ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে চাই। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫ সেই প্রয়াসেরই অংশ। ’

তিনি আরও জানান, ক্রীড়াঙ্গনে বিকেন্দ্রীকরণে সরকার জোর দিচ্ছে। ক্রিকেটের জন্য দেশে পাঁচটি মিনি বিসিবি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ফুটবলেও আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা দল গঠন করবে, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উঠে আসার সুযোগ হবে, যাদের বাছাই করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

ক্রীড়া অবকাঠামো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় ক্রীড়াতে বাজেট খুবই স্বল্প। ফলে অবকাঠামো দিক থেকে পিছিয়ে আছি। তবে সীমিত সম্পদকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছি। আরব আমিরাত আমাদের আট বিভাগে স্পোর্টস হাব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ’

তিনি জানান, অবকাঠামোর অভাবে অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজন করতে হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কার শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম, নীলফামারীসহ কয়েকটি স্টেডিয়াম বাফুফের কাছে ডেডিকেটেডলি দেওয়ার উদ্যোগ চলছে, যাতে অবকাঠামোর কারণে ফুটবল পিছিয়ে না থাকে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘মেগা প্রজেক্ট নেওয়ার চেয়ে আমরা চেষ্টা করছি দেশের প্রতিটি স্টেডিয়াম সচল রাখতে। নিয়মিত খেলা না হলে মাঠগুলো পরিত্যক্ত হয়ে যায়। আমরা সেগুলোয় মনোযোগ দিতে চাই। ”

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভঙ্গুর ক্রীড়াঙ্গন থেকে আমরা এখন একটি কাঠামোতে আসতে পেরেছি। বিকেন্দ্রীকরণের কাজও বাস্তবায়নের পথে। নব্বই দশকে ফুটবল নিয়ে যে উন্মাদনা ছিল, সেটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বাফুফে এ ব্যাপারে কৃতজ্ঞতার দাবিদার। তবে এটা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, এক বছরে সম্ভব নয়। আমরা এমন নীতিমালা গ্রহণ করছি যাতে ক্রীড়াঙ্গন দীর্ঘমেয়াদে উন্নত হতে পারে। ’

আসিফ মাহমুদ সজীব জানান, দেশে আগে কোনো আধুনিক স্পোর্টস ইনস্টিটিউট ছিল না। এখন সেটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড়েরা উন্নতমানের প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। তিনি বলেন, “যদি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে, তবে বাংলাদেশ বিভিন্ন খেলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বড় অর্জন করতে পারবে।

জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দুই ধাপ অনুষ্ঠিত হবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। এতে ৬৪ দল থেকে কমে হবে ৩২, এরপর ১৬। চূড়ান্ত নকআউট রাউন্ডে সেমিফাইনালের পর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। ফাইনালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা।

জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন করে প্রাণ সঞ্চারের একটি বড় উদ্যোগ এমনটাই মনে করছেন ক্রীরানুরাগীরা।

এআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।