ঢাকা, শনিবার, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

সারাদেশ

যশোর আ.লীগ নেতা মিলন ও ছেলে পিয়াসের নামে চার্জশিট

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩:৪৬, আগস্ট ২৯, ২০২৫
যশোর আ.লীগ নেতা মিলন ও ছেলে পিয়াসের নামে চার্জশিট শহিদুল ইসলাম মিলন ও ছেলে সামির ইসলাম পিয়াস

যশোর: বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও তার ছেলে সামির ইসলাম পিয়াসের নামে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। পিয়াস জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

এ মামলায় আরও ১১ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম। মামলার বাদী যশোর সদর উপজেলার হামিদপুরের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান।  

মামলার অপর আসামিরা হলেন- পাঁচবাড়িয়া গ্রামের শহিদুলের ছেলে মেহেদী, ঘোপ পিলুখান সড়কের গোলাম মোস্তফার ছেলে আশিক, বাগডাঙ্গা গ্রামের ডাক্তার ইন্তাজ হোসেনের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা রিফাত হোসেন, ঘোপ পিলুখান সড়কের মৃত পণ্ডিতের ছেলে সলেমান, একই এলাকার গেসু মিয়ার ছেলে সেলিম হোসেন, হামিদপুর গ্রামের শমছের মোল্লার ছেলে ময়েন উদ্দিন, ফতেপুরের আব্দুল জব্বারের ছেলে মফিজ, শেকহাটির বাহার মোল্লার ছেলে মিল্টন মোল্লা, হামিদপুরের মৃত শমছের মোল্লার ছেলে নাসির মোল্লা ও তার ভাই নাজেম মোল্লা এবং ঘোপ পিলুখান সড়কের মশিয়ারের ছেলে মোস্তাকিন।  
আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৭ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহিদুল ইসলাম মিলন ও তার ছেলে পিয়াসের নেতৃত্বে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলযোগে আসা দুই শতাধিক অজ্ঞাত সশস্ত্র সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হাজির হয় আসাদুজ্জামানের বাড়ি।

তাদের সঙ্গে ছিল একটি এস্কেভেটর ও সাতটি ট্রাক্টরের ট্রলি। বাড়ির লোক কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা মিলনের নেতৃত্বে আসাদুজ্জামানের বাড়ি এস্কেভেটর দিয়ে গুড়িয়ে দেয়।  

অস্ত্রের মুখে বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে আসাদুজ্জামানকে মারধর করে তার মোবাইলফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর তার বড় ছেলে আরমান হোসেন ও ছোট ছেলে জাফরীকেও মারধর করে তাদের মোবাইলফোন ভেঙে ফেলে। বাদীর স্ত্রী ও স্বজনরা বাধা দিলে তাদেরও মারধর করে জখম করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন আসাদুজ্জামান।

পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, হামিদপুর মৌজার ওই ২ দশমিক ৯৭ একর জমির মূল মালিক ছিলেন মৃত নুর ইসলাম। তিনি জমিটি শিল্প ব্যাংক ঝিনাইদহ শাখায় মর্টগেজ রাখেন। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংক জমিটি নিলামে তোলে, যা কিনে নেন আসাদুজ্জামান। কিন্তু দলিল হস্তান্তরের পর তিনি জমির দাগ নম্বর ভুল দেখতে পান এবং পরে আদালতের শরণাপন্ন হন।

অন্যদিকে, মৃত নুর ইসলামের বেয়াই আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ওই জমি দখলের জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করেন। এর জের ধরেই মিলনের নির্দেশে পিয়াসসহ আসামিরা বাদীর বাড়িতে হামলা চালায় এবং এস্কেভেটর দিয়ে আট কক্ষের বাড়িটি গুড়িয়ে দেয়।

তারা ওয়ারড্রপ ভেঙে নগদ ১০ লাখ টাকা, প্রায় ৩০ লাখ টাকার ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার, তিনটি গরু, ৮০ হাজার টাকার ছয়টি ছাগল, ৯ হাজার টাকার ছয়টি রাজহাঁস, পাঁচ হাজার টাকার ১০টি মুরগি, ১২ হাজার টাকার ১৫টি পাতিহাঁস, ১ লাখ টাকার ব্যাটারিসহ চারটি সোলার প্যানেল, ৩০ হাজার টাকার ১০টি লেপ-তোশক, ৩ লাখ টাকার ১৫০ সেফটি মেহগনির কাঠ, ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার ৬০ মণ গম, ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ৯০ মণ ধান, ১ লাখ টাকার খৈল, ১ লাখ টাকার ১৫ মণ তিল এবং ২৫ হাজার টাকার পানির মোটরসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর বাদী থানায় মামলা করতে গেলে তা না নেওয়ায় তিনি হাইকোর্টে যান। পরে আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়।

এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।