ঢাকা, রবিবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

রাজনীতি

ফোকাসের সংবর্ধনায় ভোট চাইলেন শিবির প্রার্থীরা, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ছাত্রদলের

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯:১৫, আগস্ট ৩১, ২০২৫
ফোকাসের সংবর্ধনায় ভোট চাইলেন শিবির প্রার্থীরা, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ছাত্রদলের ছাত্রদল-শিবির

ফোকাস বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা।

প্রতিবছর এই কোচিং সেন্টার থেকে যেসব শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তাদের নিয়ে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের প্রার্থীরা।  

রোববার (৩১ আগস্ট) তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

তবে ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ফোকাস কোচিংয়ের মহাপরিচালক এস এম ফরহাদ জানিয়েছেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠান তাদের একটি ক্যালেন্ডারভুক্ত কর্মসূচি এবং সেখানে নির্বাচনের জন্য ভোট চাওয়া হয়নি।

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের পাশে শহীদ আবু সাঈদ মিলনায়তনে ৩০ আগস্ট, শনিবার ফোকাসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের আনুমানিক এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, সেখানে ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম, জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ, এজিএস প্রার্থী মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ একাধিক প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী সাখাওয়াত জাকারিয়া সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চেয়েছেন। একইসঙ্গে কীভাবে সহজে ব্যালট নম্বর মনে রাখা যায়, তা শিক্ষার্থীদের বাতলে দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, অনুষ্ঠানে ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম, জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ এবং এজিএস প্রার্থী মহিউদ্দিন বক্তব্য রাখেন। এ সময় পেছন থেকে তাদের নাম ও ব্যালট নম্বর ধরে স্লোগান দেওয়া হয়।  

ডাকসু নির্বাচনের আচরণবিধিমালার ৯ ধারার ‘খ’ ও ‘গ’ উপধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারকাল ও নির্বাচনের দিন ভোটারদের কোনো প্রকার পানীয় বা খাদ্য পরিবেশন করা যাবে না। কোনো উপঢৌকন বা বখশিশও দেওয়া যাবে না।

ছাত্রদলের অভিযোগ, ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা এই দুটি ধারা ভঙ্গ করেছেন।

রোববার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা দিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ফোকাস বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং থেকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের নামে একত্রিত করা হয়েছে। ডাকসুর ভিপি, জিএস এবং এজিএস প্রার্থীরা সেখানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিয়েছেন ও ভোট চেয়েছেন। খাবার ও উপঢৌকন দিয়ে তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভোট প্রভাবিত করেছেন। এটি স্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন।  

তিনি আরও বলেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে এভাবে শিক্ষার্থীদের সমবেত করে এমন কার্যক্রম চালানোর সুযোগ থাকে, তাহলে সেটা সবার জন্যই উন্মুক্ত করা উচিত।

তবে ছাত্রশিবির নেতারা জানিয়েছেন, প্রতিবছরই ফোকাস থেকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে খাবার ও কিছু উপহারসামগ্রী থাকে।

ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ বাংলানিউজকে বলেন, ফোকাস তো আমাদের প্রতিষ্ঠান, আমি এর মহাপরিচালক। তাই সেখানে আমি অবশ্যই যাব। তবে আমাদের কারও নামে স্লোগান দেওয়া হয়নি।  

তিনি বলেন, যদি পরিচিতি করিয়ে ভোট চাওয়ার পরিকল্পনা থাকত, তাহলে তো আমরা পুরো প্যানেল নিয়েই যেতাম। কিন্তু সেটি হয়নি। আমাদের ফোকাসের যারা সংশ্লিষ্ট, কেবল তারাই গেছেন।  

ভোট চাওয়া হয়েছে কিনা-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা গিয়েছিলাম দায়িত্বের অংশ হিসেবে। শিক্ষার্থীরা যদি নিজেরা কিছু করে থাকে, সেটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

এফএইচ/এসআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।