বিএনপির জন্ম হয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, আর এই দীর্ঘ সংগ্রামের পথেই হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগ দেশকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। বিএনপি কখনো আওয়ামী লীগ হবে না মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আমি বিএনপির সব নেতাকর্মীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গত ৪৭ বছর ছিল অত্যন্ত গৌরবময় সময়। ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে যারা কারাভোগ করেছেন, শহীদ হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। তাদের ত্যাগের কারণেই আমরা আজ মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিতে পারছি।
হাফিজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছর ধরে টানা আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত জুলাই-আগস্টে রাজপথে অসংখ্য তরুণ-ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে, যার ফলে শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের জনগণের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছে, ইতিহাসে তার নজির নেই।
তিনি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে দাবি করেন, ভারতের কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় বসানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে নির্বাচন প্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের মাটিতে জাতীয়তাবাদের পতাকা সমুন্নত রাখতে হবে। জিয়ার সৈনিকরা সব ষড়যন্ত্র কঠোর হাতে দমন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ১৯৭১ সালে মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নিয়েছিল ছাত্র, যুবক ও সাধারণ মানুষ। সেই মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। আজও বাংলাদেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত। আমাদের প্রধান লক্ষ্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করা।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্তভাবে দেশ পরিচালনা করবে। হাফিজ উদ্দিন এ সময় বলেন, আমরা কোনোদিন আওয়ামী লীগের মতো হবো না। জীবন দিয়ে হলেও শহীদ জিয়ার আদর্শ সমুন্নত রাখবো।
এসবিডব্লিউ/আরবি