ঢাকা, রবিবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

জাতীয়

নুসরাত হত্যা: এসপি, এডিসি ও ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১:৩৬, মে ১, ২০১৯
নুসরাত হত্যা: এসপি, এডিসি ও ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি রোডমার্চ, ছবি: বাংলানিউজ

ফেনী: ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যায় জড়িত সংশ্লিষ্ট সবাইকে গ্রেফতারের দাবিতে রোডমার্চ করেছে যৌন নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীজোট।

‘জাগো মানুষ, জাগো বহ্নিশিখা’ স্লোগানে নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণবিরোধী রোডমার্চটি মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা থেকে ফেনীর সোনাগাজীতে পৌঁছায়।

সেখানে পৌঁছে প্রথমেই রোডমার্চের নেতারা নুসরাতের বাড়ি গিয়ে তার পরিবারকে সমবেধনা জানান।

এরপর সোনাগাজী শহরের জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন করেন তারা। একই দাবিতে বিকেল ৫ টায় ফেনী শহরের ট্রাংকরোড় শহীদ মিনারেও মানববন্ধন করে যৌন নিপীড়ন বিরোধী এ সংগঠনটি।

এসময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ-সাধারণ সম্পাদক সংগীতা ইমাম। ওয়ার্ল্ড এন্টি টেরোরিজম অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক জিন্নুরাইন উল্লাস, ঢাবি জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদুর রাহাত, মানবাধিকার কর্মী সংগীতা ঘোষ, চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী জ্যোতিকা জ্যোতি, যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীজোটের আহ্বায়ক শিবলী হাসান।

এসময় তারা নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় বিতর্কিত থানার ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম এবং তার পক্ষাবলম্বন করা পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও বিতর্কিত ভূমিকা রাখায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) পিকেএম এনামুল করিমের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সবার গ্রেফতার দাবি জানান।

তারা আরও বলেন, নুসরাতকে হত্যার পর সোনাগাজী থানার ওসি মেয়াজ্জেম হোসেন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছেন। জেলার পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ওসির পক্ষ হয়ে পুলিশ সদর দফতরে চিঠি দিয়েছেন। এ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার ক্ষেত্রে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।  

অপরদিকে, জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি পিকেএম এনামুল হককে অভিযুক্ত করেছেন নুসরাতের মা। জবানবন্দিতে নুসরাতের মা বলেন, নুসরাতের যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর পিকিএম এনামুল হকের কাছে গেলে তিনি সহযোগিতা না করে বরং হেনস্থা করেছেন।

মানববন্ধন থেকে নুসরাত হত্যায় ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার, এসপি জাহাঙ্গীর আলম সরকারের ভূমিকায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত, সব আসামিকে আইনের আওয়াতায় আনা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনকে দল থেকে বহিষ্কার, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।  

একইসঙ্গে আর কোনো নুসরাত কিংবা তনুকে যেন বাংলার মাটিতে প্রাণ দিতে না হয় সেজন্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে ত্বরিত ভূমিকা পালনে জোর দাবি জানানো হয়।

এর আগে রোডমার্চের নেতারা নুসরাতের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এবং সোনাগাজী আল হেলাল একাডেমির শিক্ষার্থীদের নিয়ে পদযাত্রা করেন।  

বাংলাদেশ সময়: ২১২৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ৩০, ২০১৯
এসএইচডি/ওএইচ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।