ঢাকা, রবিবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

জাতীয়

পার্বতীপুরে রেলপথ সংস্কারে অনিয়ম তদন্তে দুদক

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১:৩৫, মে ১, ২০১৯
পার্বতীপুরে রেলপথ সংস্কারে অনিয়ম তদন্তে দুদক

পার্বতীপুর (দিনাজপুর): দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলপথ সংস্কারে অনিয়মের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

দুদক সমন্বিত কার্যালয় দিনাজপুরের উপ-পরিচালক (ডিডি) আবু হেনা আশিকুর রহমান ও সহকারী পরিচালক (এডি) আহসানুল কবির পলাশসহ চার সদস্যের একটি দল এ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পার্বতীপুরে অবস্থান করে তারা তদন্ত কাজ করেন।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল ‘রেলপথ সংস্কারে অনিয়ম, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা’ শিরোনামে বাংলানিউজে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে দুদক নড়েচড়ে বসে।

দুদক সমন্বিত কার্যালয় দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক আসাদুল কবির পলাশ বাংলানিউজকে বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা পার্বতীপুরে রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং রেলস্টেশন ও রেললাইন (রেলপথ) সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। দু-তিন দিনের মধ্যে তদন্তের ফলাফল জানানো হবে।  

পার্বতীপুর রেল স্টেশনে ব্রডগেজ (বিজি) সেকশনে দুই কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে উত্তরে এসএসএই (ওয়ে) অফিসের সামনে থেকে দক্ষিণে ইয়ার্ড পর্যন্ত ৭০৮ মিটার করে ২ ও ৩ নম্বর রেলপথ সংস্কার করা হচ্ছে। এরমধ্যে ২ নম্বর রেলপথ সংস্কারে ১ কোটি ১২ লাখ এবং ৩নং রেলপথ সংস্কারের জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।  

পার্বতীপুর রেল স্টেশনে ব্রডগেজ (বিজি) সেকশনে দুই কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে উত্তরে এসএসএই (ওয়ে) অফিসের সামনে থেকে দক্ষিণ ইয়ার্ড পর্যন্ত ৭০৮ মিটার করে ২ ও ৩ নম্বর রেলপথ সংস্কার করা হচ্ছে। এরমধ্যে ২ নম্বর রেলপথ সংস্কারে এক কোটি ১২ লাখ এবং ৩ নম্বর রেলপথ সংস্কারের জন্য এক কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।  

কাজটি টেন্ডারের মাধ্যমে পেয়েছেন রেলওয়ে ঠিকাদার মেসার্স বদরুল আলম (রাজশাহী)।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে রেলের দায়িত্বশীল দু'জন কর্মকর্তা বলেন, সিডিউল অনুযায়ী প্রতিটি রেলপথের রেল লাইন উত্তোলনের পর ১ ফুট ৯ ইঞ্চি  (২১ ইঞ্চি) গভীর করে বক্স আকারে নিচের অংশ (সাববেজ) তৈরি করার কথা। কিন্তু ২১ ইঞ্চির জায়গায় মাত্র ১০-১১ ইঞ্চি গভীরতায় সাববেজ করে তার উপর স্লিপার বসানো হয়েছে। তাছাড়া সাববেজ তৈরিতে যে পরিমাপের খোয়া ব্যবহার করার কথা তার চেয়ে অনেক বড় আকারের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে সাববেজ ঠিকমতো কমপ্যাক্ট হয়নি।

এছাড়া নতুন পাথরের জায়গায় ব্যবহার করা হয় ওই রেলপথের পুরাতন পাথর তাও আবার বরাদ্দ ও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পাথর দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পার্বতীপুর রেল জংশন স্টেশনের সীমানা প্রাচীর, স্টেশন ভবনের ছাদ সংস্কার, প্লাটফরমের টিনশেড, প্লাটফর্ম উঁচুসহ রেলের সবধরনের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং কতিপয় দায়িত্বশীল রেল কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে করা হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ৩০, ২০১৯
জিপি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।