ঢাকা, রবিবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

জাতীয়

সেই বৃদ্ধার আশ্রয় মিললো বৃদ্ধাশ্রমে

স্বপন চন্দ্র দাস, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০:১৩, মে ১, ২০১৯
সেই বৃদ্ধার আশ্রয় মিললো বৃদ্ধাশ্রমে সেই বৃদ্ধাকে ঢাকায় বৃদ্ধাশ্রমে নেওয়া হচ্ছে

সিরাজগঞ্জ: রেলওয়ে স্টেশনে ফেলে রেখে যাওয়া পক্ষাঘাতগ্রস্ত সেই বৃদ্ধার আশ্রয় মিললো ঢাকার বেসরকারি চ্যারিটি সংস্থা চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার নামে এক বৃদ্ধাশ্রমে। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ৯ দিন চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ্য হলেও পুরো পরিচয় ও স্বজনদের সন্ধান না পাওয়ায় তাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরের দিকে ঢাকা কল্যাণপুরের বেসরকারি চ্যারিটি সংস্থা চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজের সহকারী ম্যানেজার বাচ্চুসহ প্রতিনিধি দলের হাতে তাকে তুলে দেন দি বার্ড সেফটি হাউজের সভাপতি ও ফেসবুক ভিত্তিক সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মামুন বিশ্বাস বলেন, এ বৃদ্ধাকে প্রায় চার সপ্তাহ আগে স্টেশনে ফেলে রেখে যায় তার সন্তানরা। তার ডান হাত, ডান পা এবং মুখের ডান পাশ অকেজো হয়েছে পড়েছে। তিনি পরিষ্কার করে কোনো কথা বলতে পারেন না। বৃদ্ধা মৃত্যুযন্ত্রণা নিয়ে স্টেশনের পাশে খোলা জায়গায় অবস্থান করছিলেন।  

রোববার (২১ এপ্রিল) তাকে গোসল করিয়ে নতুন পোশাক পরিয়ে দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। ৯ দিন হাসপাতালে তার শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এতে তিনি বেশ কিছুটা সুস্থ্য হলেও এখনও কথা বলতে পারেন না। এ কয়দিনে অনেক চেষ্টা করেও তার পরিবারের কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি।  

বেসরকারি চ্যারিটি সংস্থা চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড কেয়ারের সহকারী ম্যানেজার মো. বাচ্চু বলেন, অসহায় এ বৃদ্ধাকে আমরা নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের তত্ত্বাবধানে আরও ৫৪ জন এমন অসহায় নারী ও শিশু রয়েছে। তাদের সঙ্গে এই বৃদ্ধাকেও আমরা খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ্য করে তোলার চেষ্টা করবো। পরবর্তীতে কোনো স্বজনের সন্ধান পেলে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।  

এদিকে এ বৃদ্ধার আংশিক পরিচয় পাওয়া গেছে। সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের রেলওয়ে কলোনী মহল্লার সিংপাড়া এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন ছবি দেখে বৃদ্ধাকে শনাক্ত করেন। তারা বলেন, বৃদ্ধার নাম শ্যামলী রানী। ৪০ বছর আগে তিনি সিরাজগঞ্জ শহরেরই মেয়ে ছিলেন। এরপর যাত্রাদলের শিল্পী হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরতেন। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও বগুড়া জেলার দুপচাচিয়া এলাকায় যাত্রাদলের মুসলিম এক শিল্পীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার একমাত্র ছেলের নাম কালু, যিনি যাত্রাদলের কংক (ঢোল) বাদক। দুই মেয়েও রয়েছে, যাদের নাম হাসি ও খুশি। সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার রেলওয়ে কলোনী মহল্লায় তার দুই মাসি (খালা) কানন বালা ও মাধবী রানী বসবাস করেন। তবে শ্যামলী ধর্ম ত্যাগ করার কারণে মাতৃপক্ষের পরিবারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। প্রায় মাসখানেক আগে ঝড়ের রাতে বৃদ্ধা শ্যামলীর ছেলে কালু ও দু’মেয়ে হাসি এবং খুশি আসেন। পরে তাদের মাকে সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে স্টেশনে ফেলে রেখে গেছে বলেও আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন দাবি করে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ৩০, ২০১৯
এসএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।