ঢাকা, রবিবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

জাতীয়

 ৪২ খাতের ৩৮টির ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হয়েছে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩:৫৯, এপ্রিল ৩০, ২০১৯
 ৪২ খাতের ৩৮টির ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম দিবসের কর্মসূচি তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান/ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: শ্রমিকদের ৪২টি খাতের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৮টির ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শ্রম ও কর্ম সংস্থান মন্ত্রণালয়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম দিবসের কর্মসূচি তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
 
কতটি খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বাকিগুলোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৪২টি খাত আছে।

সেখানে আমরা মজুরি নির্ধারণ করতে পারি।
 
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় বলেন, ৪২টি সেক্টরের মধ্যে এই পর্যন্ত ৩৮টি সেক্টরের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৫ বছরে ১৮টি সেক্টরের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকিগুলোর মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
 
গার্মেন্টসের ১৫ শতাংশ শ্রমিক যে সুবিধা পেলেও বাকি খাতগুলোতে ৮৫ শতাংশ শ্রমিক সেই সুবিধা পাচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞদের দাবির বিষয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে কমপ্লেইন না আসলে তো বাড়ি বাড়ি যেয়ে কমপ্লেইন নিয়ে আসা যাবে না। যাবে?
 
অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা- এ বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে দুর্ঘটনাজনিত কারণে অসুস্থ হলে এবং সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য সহায়তা দিয়ে থাকি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সাধ আছে, সাধ্য থাকারও তো বিষয় আছে।
 
শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব উম্মুল হাছনাসহ মন্ত্রণালয় ও অধীন সংস্থা প্রধানরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
 
মে দিবসের কর্মসূচি
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে সংঘবদ্ধ সংগ্রামের অনন্য ইতিহাস গড়ার দিন মহান মে দিবস। এবারও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত হতে যাচ্ছে।
 
প্রতিমন্ত্রী জানান, দিবসটি উপলক্ষে ১ মে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। দৈনিক বাংলা মোড়ে শ্ৰম ভবনের সামনে থেকে সকাল ৭টায় শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও জিরো পয়েন্ট ধরে সচিবালয়ের সামনের সড়ক দিয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হবে।
 
এছাড়া এ দিবসটি উদযাপনে বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একটি আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।
 
দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আলাদা আলাদা বাণী দেবেন। দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে স্মরণিকা প্রকাশিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সজ্জিত করা হবে।
 
এছাড়া ২ মে বিকেল ৩টায় ‘কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা প্রতিষ্ঠার মালিক শ্রমিক ও সরকারের ভূমিকা- শীর্ষক একটি সেমিনার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে।
 
দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনে দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের দপ্তরের যৌথ সমন্বয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে।
 
শ্রমিক-মালিকের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্রে শান্তি ও সুকর্ম পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে এবছর মে দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- শ্রমিক মালিক ঐক্য গড়ি উন্নয়নের শপথ করি।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ৩০, ২০১৯
এমআইএইচ/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।