ঢাকা, শনিবার, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘ অধিবেশনে ফিলিস্তিনি নেতাদের যোগদান আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫:৩৩, আগস্ট ৩০, ২০২৫
জাতিসংঘ অধিবেশনে ফিলিস্তিনি নেতাদের যোগদান আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস

আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন রয়েছে। এতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) প্রায় ৮০ জন শীর্ষ কর্মকর্তার।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনি নেতারা শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছেন এবং একটি ‘কাল্পনিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের একতরফা স্বীকৃতি’ আদায়ের চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। তবে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সব দেশের প্রতিনিধির অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। তাই মার্কিন এই সিদ্ধান্তকে অস্বাভাবিক বলছেন অনেকেই।

এমন সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ফ্রান্স জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আন্তর্জাতিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই এমন উদ্যোগের বিরোধিতা করে এসেছে। ফ্রান্স ছাড়াও যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর আগেই জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি হিসেবে মাহমুদ আব্বাস উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পিএলও ও পিএ’র অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৮০ জন কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। যদিও রুবিও স্পষ্ট করেছেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মিশনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন।

এই চুক্তিতে বলা আছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক যেমনই হোক না কেন, বিদেশি কর্মকর্তাদের জাতিসংঘে যোগদান বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আব্বাসের দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, বিশেষ করে যখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক সদস্য। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বহুবার দুই-রাষ্ট্র সমাধানের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার মতে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে ‘হামাসের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা। ’

হামাস-শাসিত গাজা উপত্যকা ও পিএলও-শাসিত পশ্চিম তীরের মধ্যে বিভক্ত ফিলিস্তিন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত। পশ্চিম তীরেও মাহমুদ আব্বাস নেতৃত্বাধীন কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর চাপের মুখে শাসন টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

১৯৭৪ সাল থেকে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পর্যবেক্ষক মর্যাদা রয়েছে। ফলে তারা বৈঠকে অংশ নিতে পারে, তবে ভোটাধিকার নেই। বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৭টি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেছেন, জাতিসংঘ বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং আশা করছে সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, সব সদস্য রাষ্ট্র ও স্থায়ী পর্যবেক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে এই ক্ষেত্রে— যেখানে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের নেতৃত্বে দুই-রাষ্ট্র সমাধান নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরায়েলে চালানো হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এরপর থেকে গাজায় ৬৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

এমজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।