ঈদের ছুটিতে ঘুরোঘুরি জন্য সবার যখন গাড়ি-ট্যাক্সি ভাড়া করতে হিমশিম অবস্থা তখন দেখা গেল খাটে শুয়েই এক যুবক সড়কে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দিব্যি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল এখন সেই চলন্ত খাট।
কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, এই চলন্ত খাটটি তৈরি করেছেন ভারতের মুর্শিদাবাদের ডোমকল মহকুমার যুবক নবাব শেখ। নাম তার নবাব, কাজও নবাবের মতোই। খাটে শুয়েই তার ঘুরে বেড়ানো দেখে যে কেউ বলবেন, নবাব যাচ্ছে!
ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, ভিড় রাস্তায় ছুটে চলেছে নকশা করা একটি খাট। তোশক, চাদর, বালিশ সবই আছে খাটে। আরাম করে ঘুমানোর সব বন্দোবস্তই সেখানে। কিন্তু ওই খাট ঘরে থাকার নয়। রাস্তায় গাড়ির মতো ছুটে বেড়ায়। চলমান এই খাটকে নিয়ন্ত্রণ করতে স্টিয়ারিংয়ের ব্যবস্থা আছে। আছে ব্রেক, যার মাধ্যমে একে থামানো যাবে যেকোনো মুহূর্তে। খাটের দু’দিকে রয়েছে দুটি ‘লুকিং গ্লাস’, এড়ানো যাবে দুর্ঘটনা। খাটে আয়েশ করে বসে, কখনও দাঁড়িয়ে শাহরুখ খান পোজ দিচ্ছেন এক যুবক। মাঝেমধ্যে তিনিই বসে পড়ছেন স্টিয়ারিংয়ে। নিয়ন্ত্রণ করছেন খাটের গতি। খাটের পিছু পিছু চলছে বেশ কয়েকটি বাইক।
জানা গেছে, প্রেমিকার আবদার মেটাতে এই অভিনব চলন্ত খাট বানিয়েছেন নবাব শেখ। তপ্ত দুপুর পেরিয়ে এক সন্ধ্যায় ভৈরব নদীর পাড়ে প্রেমিকার সঙ্গে বসে মৃদুমন্দ হাওয়া উপভোগ করছিলেন নবাব। এ সময় চাঁদ উঠলে প্রেমিকের সান্নিধ্যে আরও রোমান্টিক হয়ে ওঠেন প্রেমিকা। মনোরম পরিবেশে তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে যে আফসোস, ‘ইশ! যদি একটা খাট থাকত, এখানেই ঘুমিয়ে যেতাম। ’ প্রেমিকার ওই আফসোস দাগ কেটেছিল নবাবের হৃদয়ে। বাড়ি ফিরেই ইন্টারনেট ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করেন। চলন্ত খাট বানিয়ে প্রেমিকাকে চমকে দেন তিনি।
তবে শুধু প্রেমিকাই নয়; নবাবের এই চলন্ত খাট চমকে দিয়েছে গোটা মুর্শিদাবাদকে। এই খাট নিয়ে রাস্তায় বের হলে ঈদের ছুটিতেও যানজট লেগে যায়। পথচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন যানবাহনের চালক-যাত্রীরা কৌতূহলী দৃষ্টিতে ছুটন্ত খাটকে দেখেন। অনেকে জটলা পাকিয়ে ক্যামেরাবন্দি করেন, ভিডিও করেন খাটের, সেলফি তোলেন নবাবের সঙ্গে।
‘নবাবি খাটে’র ভিডিও বানানোর ধুমে বিপাকে পড়ে প্রশাসন। যানজট কমাতে শেষে পুলিশের অনুরোধে খাট নিয়ে ঘরে ফিরতে হয় নবাবকে।
নবাব শেখ জানিয়েছেন, দুই বছরের চেষ্টায় তিনি এই ভ্রাম্যমাণ খাট বানিয়েছেন।
তিনি বলেন, খাটের নিচে ৮০০ সিসির একটি ইঞ্জিন বসানো হয়েছে, যার সাহায্যে এটি চলতে পারে। কাকার দোকান থেকে কাঠের ফার্নিচার এবং কয়েকজন বন্ধুর সহযোগিতা নিয়ে লেদ মেশিনে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কিছু পরিবর্তন করে সোয়া ২ লাখ টাকা খরচ করে এই খাটগাড়ি তৈরি করেছি।
বাংলাদেশ সময়: ১৬২৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ০২, ২০২৫
এসএএইচ