ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাকরির প্রস্তুতির সুবিধার্থে দশতলা বিশিষ্ট একটি স্বতন্ত্র ‘স্টাডি স্পেস’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেল।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের ইশতেহারে এমন প্রস্তাব তুলে ধরেন প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের।
প্রস্তাবনাগুলোর রাজনৈতিক, একাডেমিক ও প্রশাসনিক, স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার, ক্যারিয়ার ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট, কালচারাল ও স্পোর্টস, নারী, স্টুডেন্টস ডিগনিটি এবং ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির বিষয় স্থান পেয়েছে।
নিচে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের প্রস্তাবনা হুবহু তুলে ধরা হল-
রাজনৈতিক
অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় রাজনীতির মহড়া, অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে জীবন, কর্ম, জ্ঞান, দক্ষতা ও সেবাভিত্তিক নাগরিক তৈরি করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হবে।
হল ও অ্যাকাডেমিক অঙ্গনে দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো বন্ধ করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, নিপীড়ন ও জুলুমের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
৪৭ এর পাকিস্তান আন্দোলন, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ভূমিকার গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে। স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদ-বিরোধী ধারা বজায় রাখা হবে।
অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক
৭৩ এর অধ্যাদেশের স্বায়ত্তশাসনকে অর্থবহ করার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র’ অবসানের লক্ষ্যে ভিসি, প্রোভিসি, প্রভোস্টসহ প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগের স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
ওয়ান স্টপ সলিউশন: একটি অ্যাপ বানানো হবে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রেজিস্টার ভবনের দৌরাত্ম্য ও সিন্ডিকেট বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সেবা গ্রহণ করবে। ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষার রেজাল্ট, অ্যাডমিট উত্তোলন, বেতন পরিশোধ করা যাবে। এভাবে রেজিস্ট্রার বিল্ডিং ও অ্যাডমিন্সট্রেটিভের অধিকাংশ কাজ ‘পেপারলেস’ করা হবে। লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (যেমন-মোডল, ব্ল্যাকবোর্ড, গুগল ক্লাসরুম) পরিধি বৃদ্ধি করব। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা স্টুডেন্টদের নির্দেশনা দিতে পারবে, শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকদের থেকে কোর্স সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা থেকে শুরু করে রেফারেন্স বই-আর্টিকেল অনুসন্ধান, অ্যাসাইনমেন্ট জমা ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। কোর্স সংক্রান্ত প্রশ্ন করতে পারবে।
আধুনিক ক্লাসরুম ও পাঠদানের জন্য ক্লাসে ডিজিটাল উপকরণ নিশ্চিত করা হবে। ল্যাব ফ্যাসিলিটির আধুনিকায়ন করা হবে। আবাসিক হলের ল্যাবগুলোকে সচল রাখব। শিক্ষক মূল্যায়ন এবং সেমিস্টার পরবর্তী শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষার্থীরাও যেন শিক্ষকদের পাঠদানের মানের মূল্যায়ন করতে পারে। দশতলা বিশিষ্ট একটা স্বতন্ত্র স্টাডি স্পেস নির্মাণ করা হবে যেখানে নিরবিচ্ছিন্নভাবে চাকরির প্রস্তুতিমূলক পড়াশোনা করা যাবে। যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধাও থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিতে শিক্ষকদের নিয়োগদান প্রক্রিয়া যুগোপযোগী করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে দলীয় ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। শিক্ষকদের ডেমো ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হবে।
ক্রেডিট ট্রান্সফার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্রেডিট ট্রান্সফার করে বিশ্বের যেকোনো আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে ভর্তি হতে পারে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চুক্তি করা হবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুক্তির মাধ্যমে যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম, এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ও স্কলারশিপ এর ব্যবস্থা করা হবে। ডিপার্টমেন্টের ও রিসার্চ সেন্টারের ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের রিসার্চের আউটপুট নিয়মিত প্রকাশ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করব এবং আন্তর্জাতিক সেমিনারে শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র প্রকাশে কাজ করব।
অনুষদভিত্তিক পূর্ণকালীন পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করা হবে। দেশি-বিদেশী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করব। ই-বুক ও আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালে সুলভ অ্যাকসেস নিশ্চিত করব। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রাস্তা ও হলের সম্মুখভাগ আলো ও সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসা হবে।
ফ্যাসিবাদী আমলে দলীয় রাজনীতির প্রভাব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে কথিত ম্যানার শিখানোর নামে গেস্টরুম সংস্কৃতির মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে নির্যাতন ও ট্রমার শিকার হতে হয়েছে, সেসব ট্রমা হিলিং এর জন্য প্রতিটি গেস্টরুমের নাম পরিবর্তন করে সেন্টার ফর ফ্রেন্ড অ্যান্ড ফ্যামিলি নামকরণ করা হবে। গেস্টরুম বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো রেফারেন্স ওয়ার্ড থাকবে না। রাষ্ট্র কর্তৃক বেদখল হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ একর জমি আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করব।
স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার
ওয়ান কার্ড অল সার্ভিসের মাধ্যমে লাইব্রেরি একসেস, স্বাস্থ্য সেবা, পরিবহন সেবা, ক্যান্টিন সেবা, হলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হবার এক সপ্তাহ পূর্বে এই কার্ড প্রদান করা হবে। ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান সিট’ নীতিমালার অধীনে হল প্রশাসনকে শক্তিশালী করে সিট বণ্টনের একটি সমন্বিত নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হবে। আবাসন সংকট দূরীকরণে চাহিদাপত্র অনুযায়ী হলে শিক্ষার্থীদের এটাচমেন্ট দেয়া হবে। কোনো হলেই চাহিদার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী বরাদ্দ করা হবে না। আবাসন সংকট পরিপূর্ণ দূরীকরণ পর্যন্ত যারা সিট পাবে না তাদেরকে আবাসন ভর্তুকির আওতায় আনতে হবে। প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরুর এক সপ্তাহ আগে সিট নিশ্চিত করব এবং স্নাতকোত্তর রেজাল্ট প্রকাশের এক সপ্তাহ পরে সিট ছেড়ে দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কার্ডধারী যেকোনো শিক্ষার্থী সরকারি বা বেসরকারি যেকোন হাসপাতালে বিনামূল্যে ৫০ শতাংশ সাশ্রয়ে চিকিৎসা পাবে। প্রতিটি হলে মেডিকেল অফিসারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে এবং একটি করে ‘সিক রুম’ থাকবে। তাছাড়া, ক্যাম্পাসে জোনভিত্তিক মেডিক্যাল ফার্মেসি থাকবে যা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের আধুনিকায়ন করা ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল মেডিক্যাল সেন্টারে ট্রমা সেন্টার চালু করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীর জন্য ল্যাপটপ নিশ্চিতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সুদবিহীন লোনের ব্যবস্থা করা হবে। এক্সটেন্ডেড স্বাস্থ্য সুবিধা- ঢামেক ও পিজি হাসপাতালের সাথে মেডিকেল চেক আপ ও টেস্ট সংক্রান্ত চুক্তি করব যেন শিক্ষার্থীরা সহজে চিকিৎসা সেবা পায়। জটিল ও দুরারোগ্য রোগের জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করব। ভাড়ায় চালিত পরিবহন বিআরটিসির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যতটা সম্ভব নিজস্ব পরিবহন নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য পৃথক চক্রাকার বাসের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ক্যাম্পাস থেকে বের হতে পারে (আপ ট্রিপ) এবং রাত ১০টা পর্যন্ত বাসে করে নিরাপদে ক্যাম্পাসে ফিরতে পারে (ডাউন ট্রিপ)।
‘ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস’ ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাবার একসেস নিশ্চিত করা হবে। ডাকসু ও টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের ভর্তুকি প্রদান ও মান বৃদ্ধি করা হবে এবং যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করা হবে। সোশ্যাল সাইন্স, মোকাররম, কাজী মোতাহর হোসেন ভবনে ক্যান্টিন ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন করব। সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, সাইন্স লাইব্রেরি আধুনিকায়ন করা হবে এবং অনুষদভিত্তিক লাইব্রেরি স্থাপন করা হবে। ২৪ ঘণ্টা লাইব্রেরি সেবা নিশ্চিত করব। ই-লাইব্রেরি চালু করা হবে। এফবিএসের ডেটা সেন্টার চালু করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডেটা সংরক্ষণ ও সিকিউর করার জন্য নিজস্ব ডাটা সেন্টার নির্মাণ করা হবে।
ক্যারিয়ার ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট
কেন্দ্রীয়ভাবে ক্যারিয়ার ক্লাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সিলেকশন, গ্রুমিং এবং খণ্ডকালীন চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। হলে হলে আউট সোর্সিং ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে শিক্ষার্থীরা হলে বসে আয় করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আসার পরেই শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক বেসিক কোর্সের (পাওয়ার পয়েন্ট, এক্সেল, পাবলিক স্পিকিং) ব্যবস্থা করা। বিজনেস ও উদ্যোক্তাদের জন্য হাব তৈরি করা হবে। যার মাধ্যমে তাদের ব্যবসা প্লানিং এবং উদ্যোক্তা হতে সহযোগিতা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে বিভিন্ন ওয়ার্কপ্লেসগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য নূন্যতম এক হাজার খণ্ডকালীন বা পার্টটাইম চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে শিক্ষার্থী বান্ধব করা হবে।
কালচারাল ও স্পোর্টস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে মিউজিয়াম এবং কালচারাল সেন্টার তৈরি করা হবে। ১৮টি হলের টিভি রুমকে আধুনিক করে মিনি সিনেপ্লেক্স করা হবে। আর একটা সেন্ট্রাল সিনেপ্লেক্স করা হবে। আধুনিক গেইমসরুম এবং জিমনেশিয়াম স্থাপন করা হবে। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধি করব, হল ভিত্তিক খেলার মাঠগুলোকে সংস্কার করব এবং খেলার মাঠগুলো স্টুডেন্টদের জন্য সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করব। ডিবেটিং ক্লাব, গবেষণা ক্লাবসহ অন্যান্য কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস সম্পর্কিত ক্লাবগুলোকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহণ করব। টিএসসিভিত্তিক ক্লাবগুলা কোনো রাজনৈতিক দলের অধীনে যাবে না। নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি, সেক্রেটারি নিয়োগ হবে।
নারী
নারী হলগুলোতে ক্রীড়া সুবিধা বৃদ্ধি করব। আধুনিক ইনডোর গেইম ও জিমনেসিয়াম প্রতিস্থাপন করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের জন্য তিনটি এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে যাতে যেকোনো হলে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক রেসপন্স করা যায়। বিশেষ করে কুয়েত মৈত্রী হল, বঙ্গমাতা হল এবং সমাজকল্যাণ এরিয়ায় ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি, সেন্ট্রাল মসজিদসহ অন্যান্য জায়গায় মেয়েদের নামাজের স্থান প্রসারিত করা হবে। অনাবাসিক মেয়েদের হলে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপরিসর বা কমন স্পেসগুলো নারীবান্ধব করা হবে। নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি লিঙ্গভিত্তিক যেকোনো ধরণের বৈষম্য, হয়রানি দূর করে সমান এবং মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে সমতা নিশ্চয়ন কমিটি গঠন করব। নারী শিক্ষার্থীদের সাইবার বুলিং থেকে রক্ষা করতে ‘বিশেষ সাইবার সিকিউরিটি সেল’ গঠন করা হবে। পরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে (শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অধিকারকর্মীদের সন্নিবেশে) সমতা নিশ্চয়ন কমিটি গঠন করব।
আইনি সহায়তা: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে আইনী সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করার লক্ষ্যে ‘লিগ্যাল সাপোর্ট সার্ভিস’ চালু করা হবে।
শিক্ষার্থীদের মর্যাদা
দাড়ি-টুপি, বোরকা-হিজাবসহ পোশাক ও আঞ্চলিকতা কেন্দ্রিক মোরাল পুলিসিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ভিন্নধর্মাবলম্বী, জাতিসত্তা ও মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অপরায়ন ও বৈষম্য বন্ধ করা হবে।
ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি
স্টারলিংকের মাধ্যমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সেবার আওতায় নিয়ে আসা হবে। সকল একাডেমিক বিল্ডিং ও হলকে এডুরোমের মাধ্যমে ফ্রি ও ফাস্ট ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসবো।
এফএইচ/এমজে