বরিশাল: মন্ত্রণালয়ের ভুয়া প্রজ্ঞাপন বানিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা গ্রামের জহুর আলী সরদারের ছেলে মিজানুর রহমান।
তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর প্রতারক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর ২১ থেকে ২৫ পর্যন্ত মোট পাঁচটি ধারায় অপরাধ সংঘটনের দায়ে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন বরিশাল অঞ্চলের পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক।
মামলার পর ২৯ আগস্ট রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার একমাত্র আসামি মিজানুর রহমানকে মাধবপাশা থেকে গ্রেপ্তার করে ৩০ আগস্ট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার জন্য অন্যের পরিচয় ধারণ করে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করার উদ্দেশে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া সরকারি প্রজ্ঞাপন বানিয়েছিলো বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক সময় বরিশালের সুরভী লঞ্চ কোম্পানির ম্যানেজার পদে চাকরি করতেন মিজানুর রহমান। সেখানে সাংবাদিক পেটানোসহ নানা অভিযোগে ছিল তার বিরুদ্ধে, ধারাবাহিক অভিযোগের কারণে চাকরিচ্যুত হন তিনি। এরপর এলাকায় গিয়ে ক্ষমতাসীন বিভিন্ন দলের আশ্রয়ে থেকে নিজের অবস্থানের জানান দেওয়ার বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন মিজানুর রহমান।
সর্বশেষ কয়েক দিন আগে মিজানুর রহমান নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি সরকারি ‘প্রজ্ঞাপন’ পোস্ট করেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং শিল্পায়ন কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা সুইডেনের এইচ অ্যান্ড এম করপোরেশন এবং স্পেনের ইন্ডিটেক্স গ্রুপের জারা ২০২৬ সালের এপ্রিলে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা এলাকায় তাদের আঞ্চলিক শাখা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্থান নির্বাচন, জমি অধিগ্রহণ, জনবল নিয়োগ ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য হেড অব হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট হিসেবে মিজানুর রহমানকে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
কথিত প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মাধবপাশা শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরিত হবে। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বরিশাল অঞ্চলের পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, গত ২৮ আগস্ট পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফোন করে আমাকে ঘটনাটি জানিয়ে পোস্টদাতাকে শনাক্ত করতে বলেন। আমি মাধবপাশা বাজারে গিয়ে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে প্রতারকের পরিচয় নিশ্চিত করি। পরে এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করি।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি আল মামুন-উল-ইসলাম বলেন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর ৫টি ধারায় অপরাধ সংঘটনের দায়ে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে শুক্রবার সন্ধ্যায় মামলা হয়। রাতেই আসামিকে মাধবপাশা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এমএস/জেএইচ