ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

রাজনীতি

‘আয়না ঘরে’ কেটেছে আমার ৬১ দিন: সালাহউদ্দিন আহমদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০:৩২, আগস্ট ২৯, ২০২৫
‘আয়না ঘরে’ কেটেছে আমার ৬১ দিন: সালাহউদ্দিন আহমদ সালাহউদ্দিন আহমদ

ঢাকা: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমাকে ৬১ দিন ধরে একটি গোপন ও অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল, যা পরিচিতি পেয়েছে 'আয়না ঘর' নামে। ওই ঘরে কোনো আয়না না থাকলেও ছিল মৃত্যু ও যমদূতের মতো এক ভয়ঙ্কর পরিবেশ।


শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে গুম দিবস উপলক্ষে ‘রিপ্রেশন টু রেভুলুশন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে সেই ৬১ দিনের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।  

তিনি বলেন, আমাকে চোখ বেঁধে একটি গুপ্ত গুহায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে একজন মানুষের পক্ষে বসবাস করা অসম্ভব। রুমটি ছিল প্রায় ৫ ফুট বাই ১০ ফুট। এটি ছিল একটি নোংরা স্থান, যেখানে প্রস্রাব-পায়খানার জন্য একটি ছিদ্র ও পানির জন্য একটিমাত্র ট্যাপ ছিল।

তিনি বলেন, বিচ্ছু আসতো... দুর্গন্ধ আসতো। একটি পাতলা কম্বল ও বালিশ দেওয়া হয়েছিল, যার নিচে প্রায়ই কালো বিচ্ছু পিঠের ওপর নড়াচড়া করত। খাবার দেওয়ার সময় ছাড়া অন্য সব সময় রুমের বাইরে একটি ফ্যান চলত।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম এবং বারবার আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতাম, যদি মৃত্যু হয়, তবে যেন আমার লাশটি পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যান তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।  

তিনি মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর তথ্য এবং নূর খান লিটনের নেতৃত্বাধীন গুম কমিশনের রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৮৫০ জনের বেশি মানুষ গুম হয়েছেন। এছাড়া, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত ২৬৯৩ জনের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই বিভীষিকাময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। তাই আমি সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

আগামীতে জনগণ যদি ম্যান্ডেট দেয়, তাহলে বিএনপি গুমের সংস্কৃতি বন্ধ করতে আইন প্রণয়ন করবে বলেও উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।  
তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের আহ্বান জানাবো-বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন।

সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ধোঁয়াশার বিষয়ে সতর্ক করেন।  

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর সংগ্রামের পর ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ এসেছে, তা যেন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে এবং একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠিত হবে।

এমন একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে অতীতের ফ্যাসিবাদী অপসংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচারভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

ইএসএস/এসআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।